
মোঃ আকাশ উজ্জামান শেখ, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দওেরমেঠ এলাকায় বৈধ কাগজপত্র ও দীর্ঘদিনের দখলে থাকা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একের পর এক মামলা করে হয়রানি এবং মামলা থেকে নিষ্পত্তির জন্য ৩ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে মোঃ বারেক ব্যাপারী, কবির ব্যাপারী ও ফিরোজা বেগমের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমির বৈধ কাগজপত্র ও দখল থাকার পরও প্রতিপক্ষ তাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। দখলে ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা দায়েরসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মোঃ বারেক ব্যাপারী, কবির ব্যাপারী ও ফিরোজা বেগমের কাছে জমিটির মালিকানার বৈধ দলিল নেই। তারা বিভিন্ন সময়ে জমি দখলের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিরোধের জেরে সোহাগ ব্যাপারী, খালেক ব্যাপারী, ফারুক ব্যাপারী ও মালেক ব্যাপারীর বিরুদ্ধে বাগেরহাট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় মামলা করা হয়। পরে মোংলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তের পর ভুক্তভোগী সোহাগ ব্যাপারীর ক্রয় করা জমি হিসেবে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ওই মামলার নিষ্পত্তির পরও একই দাগ ও খতিয়ান ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সোহাগ ব্যাপারী ও ফারুক ব্যাপারী জানান, মোংলা উপজেলার জে এস ১৬০ নম্বর দওেরমেঠ মৌজার এসএ ১৫৪ ও ১৫৫ নম্বর খতিয়ানের এবং বিআরএস ৮৪ নম্বর খতিয়ানের এসএ ১১০২ ও ১০৪৭ দাগের স্থলে বিআরএস ২০৭৬ দাগে প্রায় ০.১৯ একর জমি তারা দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
তাদের দাবি, বৈধ দলিলপত্র যাচাই করে তারা আত্মীয়ের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষ জমির মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন তারা।
সোহাগ ব্যাপারীর অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তির জন্য ৩ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সোহাগ ব্যাপারীর স্ত্রী ময়না খাতুন বলেন, “আমার স্বামী নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। সংসারের খরচ চালাতে আমি ইপিজেডে চাকরি করি। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় দিয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখে জমিটি কিনেছি। এখন সেই জমি নিয়ে একের পর এক মামলা করে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা দ্রুত এ হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে মোঃ বারেক ব্যাপারী, কবির ব্যাপারী ও ফিরোজা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তারা দাবি করেন, “এই জমি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এ বিষয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। এখন আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন।”
তবে প্রথম মামলার নিষ্পত্তির পরও একের পর এক মামলা ও হয়রানির অভিযোগ এবং ৩ লাখ টাকা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিস্তারিত কিছু না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তারা জানেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, ভুক্তভোগী পরিবার ৩ লাখ টাকা দিলে আর মামলা-মোকদ্দমায় না যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।