
আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
পাট-পেঁয়াজের রাজধানীখ্যাত ফরিদপুরের সালথায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অনেক কম হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। সংরক্ষণ করে পরে বিক্রির আশায় মাচায় রাখা পেঁয়াজও পচে নষ্ট হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক চাষি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সালথার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার কৃষক রয়েছেন। উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রায় ২০০ হেক্টর এবং বীজ পেঁয়াজ প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। মৌসুমে উপজেলার ৩০ হাজারের বেশি কৃষক পেঁয়াজ আবাদ করেছেন বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর ও বালিয়া বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে অনেকে পেঁয়াজ বিক্রি না করে মাচায় সংরক্ষণ করেন। পরে দাম বাড়লে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ ও লাভ তুলে নেওয়ার আশা থাকে। কিন্তু এবার বাজারদর না বাড়ায় সেই আশাও পূরণ হচ্ছে না।
চাষিদের অভিযোগ, মাচায় সংরক্ষণ করা পেঁয়াজের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পচে যাচ্ছে। অনেক কৃষকের পুরো মাচার পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। ন্যায্য দাম না পেয়ে কোথাও কোথাও কৃষক পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
এ অবস্থায় কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ চান। পাশাপাশি পেঁয়াজ চাষে কৃষি প্রণোদনা বাড়ানো এবং মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষকদের অনেকে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া পেঁয়াজ আমদানি না করারও দাবি জানিয়েছেন।