
আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও শিক্ষার ফলাফলে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। ১৯৮৩ সালে অজপাড়াগাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে উপজেলার অন্যতম সফল মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দাখিল পর্যায়ে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে সর্বাধিক প্রায় আটবার শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
সালথা উপজেলা সদরের পূর্ব প্রান্তে ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে মাদ্রাসাটির অবস্থান। পাকা রাস্তা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা পেরিয়ে যেতে হয় প্রতিষ্ঠানে।
প্রায় দুই একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে একটি চারতলা ভবন, একটি তিনতলা ভবন ও একটি টিনশেড ভবন। এসব ভবনে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক ও মানসম্মত কম্পিউটার ল্যাব, পাঠাগার এবং খেলার মাঠ।
বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শুরুতে দাখিল মাদ্রাসা হিসেবে কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১২ সাল থেকে আলিম পর্যায়ের কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে এবতেদায়ী থেকে ফাজিল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময় পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য। প্রতিবছর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে কৃতিত্ব অর্জন করে। গত পাঁচ বছরের গড় হিসাবে দাখিল পর্যায়ে পাসের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং আলিম পর্যায়ে প্রায় ৯০ শতাংশ। প্রায় প্রতিবছরই কোনো না কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সাফল্য অর্জন করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করে আসছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে পাকা রাস্তা থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা নিয়ে দুর্ভোগ রয়েছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মওলানা মো. আবু ছায়েম মোল্যা প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি অবকাঠামো, আসবাবপত্র, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নানা পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে তিনি উপজেলা পর্যায়ে প্রায় আটবার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মওলানা মো. আবু ছায়েম মোল্যা বলেন, “মান্যবর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিকনির্দেশনায় বর্তমানে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হচ্ছে। আমরা আবাসিক ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছি। পাশাপাশি খেলার মাঠটি আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পাকা রাস্তা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য কষ্টের কারণ। রাস্তাটি পাকাকরণ হলে সবার জন্য ভালো হবে। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও উন্নত করা।”