
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৫৫টি পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতে মাটির অবয়বে ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছেন দেবী দুর্গা।
ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ, আবার কোথাও শিল্পীরা ব্যস্ত প্রতিমার অবয়ব ও অলংকার তৈরিতে। শিল্পীদের কর্মব্যস্ততায় পূজামণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি গৌর বসাক বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরিসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিমাশিল্পী সচিন রায় বলেন, ১১ অক্টোবর থেকে নবরাত্রি শুরু হয়েছে। তবে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার থেকে শুরু হবে বলে তিনি জানান। এবার ভাদ্র মাস থেকে দুটি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তিনি। এর মধ্যে রাঘবপুর মন্দিরের প্রতিমা তৈরির পারিশ্রমিক ১৫ হাজার টাকা এবং ঘোঘডারা মন্দিরের প্রতিমার পারিশ্রমিক ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, কাজের তুলনায় এই পারিশ্রমিক খুব একটা লাভজনক নয়।
রাঘবপুর মণ্ডপের সভাপতি সাগর চন্দ্র বলেন, দুর্গাপূজা তাঁদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও আনন্দ, উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে। পূজাকে ঘিরে নতুন পোশাক কেনাকাটাসহ নানা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ বারী জানান, এবার উপজেলায় ৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২১টি মণ্ডপকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি বিটভিত্তিক টহল দলও দায়িত্ব পালন করবে।
ওসি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন কাজ করছে।