আজ ১৪ অক্টোবর ২০২৬: ডিজিটাল দক্ষতাকে বাস্তব কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে রংপুরে ১৭ জন প্রশিক্ষিত তরুণীর হাতে ল্যাপটপ তুলে দিয়েছে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। সেভ দ্যা চিলড্রেন-এর সহযোগিতায় Skills to Succeed (GG-12) প্রকল্পের আওতায় ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বুধবার রংপুরের সিও বাজারে অবস্থিত ইএসডিও সিলভার জুবিলি ভবনে “From Digital Skills to Economic Opportunities: Laptop Handover Ceremony” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) মিসেস জিলুফা সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: আব্দুল ফারুক, এবং Save the Children in Bangladesh-এর ম্যানেজার মোহাম্মদ ওবায়দুল হক এবং Save the Children in Bangladesh-এর রংপুর রিজিওনাল অফিসের কোঅর্ডিনেটর ডা: শারমিন সুলতানা উর্মি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উইমেন চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর সভাপতি শাহনাজ পারভিন। ইএসডিও থেকে উপস্থিত ছিলেন মো: আমির হোসেন, হেড অব ট্রেনিং, ডকুমেন্টেশন, পাবলিকেশন এন্ড সোশ্যাল মিডিয়া, মো: মাসুদ রানা, ডিস্ট্রিক ম্যানেজার, গ্রাম আদালত প্রকল্প, এম এ কাহার বকুলসহ সকল উন্নয়নকর্মীগণ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন Youth Career and Development Organization (YCDO)-এর সভাপতি এ এস এম সবদার হোসাইন এবং নির্বাহী পরিচালক মো:দ হানিফ আলীসহ প্রশিক্ষণার্থী, অভিভাবক ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণীদের ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইনভিত্তিক কাজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং এবং আয়বর্ধক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরিই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণ অর্জনের পর ব্যক্তিগত ল্যাপটপের অভাবে অনেক তরুণীর নিয়মিত অনুশীলন, কাজের নমুনা তৈরি এবং অনলাইন কাজের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ল্যাপটপ সহায়তার মাধ্যমে সেই প্রযুক্তিগত বাধা কমিয়ে তাদের অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথি মিসেস জিলুফা সুলতানা তাঁর বক্তব্যে তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তবে কাজে লাগানোর জন্য এ ধরনের সহায়তা প্রশিক্ষণার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নতুন সুযোগ অন্বেষণে উৎসাহিত করবে।”
বিশেষ অতিথি মো. আব্দুল ফারুক তাঁর বক্তব্যে যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মমুখী উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন “তরুণদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সেই দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও যথাযথ দিকনির্দেশনা পেলে তরুণীরা নিজেদের যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারবেন।”
Save the Children in Bangladesh-এর রংপুর অফিসের কোঅর্ডিনেটর ডা: শারমিন সুলতানা উর্মি তাঁর বক্তব্যে দক্ষতা উন্নয়নকে বাস্তব জীবিকার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন “ডিজিটাল দক্ষতা তখনই আরও কার্যকর হয়, যখন প্রশিক্ষণার্থীরা তা নিয়মিত অনুশীলন ও বাস্তব কাজে প্রয়োগ করার সুযোগ পান। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণীদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়ক হতে পারে।”
ল্যাপটপ পাওয়া প্রশিক্ষণার্থী গ্র্যাজুয়েটরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন “ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছি। কিন্তু ব্যক্তিগত ল্যাপটপ না থাকায় নিয়মিত অনুশীলন ও অনলাইন কাজের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন ছিল। ল্যাপটপ পাওয়ায় এখন আমরা নিজেদের দক্ষতা আরও উন্নত করতে, কাজের নমুনা তৈরি করতে এবং ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে পারব। এই সহায়তা আমাদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।”
প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান YCDO-এর সভাপতি মো. সবদার হোসাইন তাঁর বক্তব্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উপকরণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন “দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণকে ফলপ্রসূ করতে নিয়মিত অনুশীলন ও বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ প্রয়োজন। ল্যাপটপ সহায়তা প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতা চর্চা এবং কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়ক হবে।”
ইএসডিও-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, Skills to Succeed (GG-12) প্রকল্পের লক্ষ্য হলো তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা। ল্যাপটপ বিতরণের এ উদ্যোগ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অর্জিত দক্ষতাকে বাস্তব কাজে প্রয়োগে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণার্থীদের এ সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মজীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।
অনুষ্ঠানে তরুণীদের ডিজিটাল দক্ষতাকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পথে এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থা, নিয়োগদাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্বও উঠে আসে।
ল্যাপটপ বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা চর্চা, ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রস্তুতি এবং অনলাইনভিত্তিক আয়ের সুযোগ অন্বেষণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।