ভোট বদলায়, ভাগ্য বদলায় না দিনাজপুর–৬


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০২-০৫, ২:৪২ PM /
ভোট বদলায়, ভাগ্য বদলায় না দিনাজপুর–৬

দিনাজপুর–৬ (ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও বিরামপুর)—এই সংসদীয় আসনটি বহু বছর ধরেই উন্নয়ন বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক নির্বাচন হয়েছে, সরকার ও জনপ্রতিনিধি বদলেছে; কিন্তু বদলায়নি সাধারণ মানুষের জীবনমান। ভোট আসে, ভোট যায়—কিন্তু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আজও অধরাই রয়ে গেছে।

গত প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই আসন দীর্ঘ সময় জামায়াতে ইসলামীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে টানা প্রায় ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এলাকার সার্বিক চিত্রে তেমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। সীমান্তবর্তী হওয়া সত্ত্বেও এখানে গড়ে ওঠেনি উল্লেখযোগ্য শিল্প-কারখানা, হয়নি টেকসই কর্মসংস্থানের উদ্যোগ। ফলে কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠী ও যুবসমাজ আজও দারিদ্র্য ও বেকারত্বের দুষ্টচক্রে আটকে আছে।

দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে দিনাজপুর–৬ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়লেও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—এই পরিবর্তন কি বাস্তব উন্নয়নের সূচনা করবে, নাকি আবারও প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দিনাজপুর–৬ আসনের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই তিনি কাজ করতে চান। তাঁর পরিকল্পনার অন্যতম দিক হলো হিলিস্থল স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম জোরদার করা। এতে করে সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা জরুরি। শিল্প, ব্যবসা ও সীমান্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

তবে একই ধরনের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলামসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও। ফলে ভোটারদের সামনে প্রশ্ন—কাকে বিশ্বাস করা যায়?

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই উন্নয়নের স্বপ্ন দেখানো হয়, কিন্তু ভোট শেষ হলে জনপ্রতিনিধিদের আর দেখা যায় না। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে নেই আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্প, নেই পণ্য সংরক্ষণ ও বিপণনের কার্যকর ব্যবস্থা। ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কাজের সন্ধানে যুবসমাজ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

দিনাজপুর–৬ এর মানুষ আর আশ্বাসের রাজনীতি চায় না। তারা চায় দৃশ্যমান উন্নয়ন, জবাবদিহিমূলক রাজনীতি এবং স্থায়ী সমাধান। এবার ভোটের রায় শুধু ক্ষমতার পালাবদল ঘটাবে, নাকি সত্যিই বদলাবে মানুষের ভাগ্য—সেই দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো আসন।