

রিয়াজ রহমান :: জগন্নাথপুর পৌর শহরের নলজুর নদীর পাড়ে হবিবপুর গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী চোট মিয়ার মালিকানাধীন সানলাইট আবাসিক বোর্ডিংকে ঘিরে এবার প্রকাশ্যে এসেছে সরকারি জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা সম্প্রসারণের গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ লাইনের সাময়িক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ভবনের সামনের অংশ তৃতীয় তলা পর্যন্ত বেআইনিভাবে সম্প্রসারণ করে সরকারি জায়গা দখল করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডিং সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি একটি আর্চ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণকালীন সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বোর্ডিং সংলগ্ন বিদ্যুৎ লাইন সাময়িকভাবে ভূগর্ভস্থ (মাটির নিচ দিয়ে) স্থাপন করে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মালিকপক্ষ দ্রুত ভবনের সামনের অংশ সম্প্রসারণ করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহলে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার ধারণ করে যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), জগন্নাথপুর আবাসিক প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত পত্র পাঠানো হয়। পত্রে অবৈধভাবে সম্প্রসারিত অংশ অপসারণে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার ও জগন্নাথপুর পৌরসভা যৌথভাবে বোর্ডিং সংলগ্ন সরকারি ভূমির মাপজোক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ঘটনাস্থলে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং মাপজোক কার্যক্রম দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করেছে, মাপজোকের নথিপত্র যাচাই করে সরকারি জমি দখল বা অবৈধ স্থাপনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজন হলে অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌর শহরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বারবার সরকারি জমি দখলের চেষ্টা হচ্ছে। তাই এই ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :