কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্প জাতীয়করণের দাবি শিক্ষকদের


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-১০-০৫, ৪:২০ PM / ০
কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্প জাতীয়করণের দাবি শিক্ষকদের

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে ভূমিকা রাখছে কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প। সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা, জীবনদক্ষতা উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের সচেতন ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে কাজ করছে এসব ক্লাব।

তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করেও যথাযথ সুযোগ-সুবিধা, নিয়মিত সম্মানী ও চাকরির নিশ্চয়তা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও জেন্ডার প্রমোটররা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কাজের মূল্যায়ন করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প জাতীয়করণ করা হোক।

চিলমারী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিয়মিত ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা থেকে দূরে রাখতে এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের উপজেলা জেন্ডার প্রমোটর মোছা. নূরে আলম সিদ্দিকা বলেন, “আমরা প্রায় সাত বছর ধরে কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। দীর্ঘদিন কাজ করলেও আমাদের অনেকের চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। কাজের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা ও মূল্যায়ন না থাকায় অনেকেই হতাশ। প্রকল্পটি জাতীয়করণ করা হলে আমাদের মতো জেন্ডার প্রমোটর ও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সার্থক হবে। তাই আমরা প্রকল্পটি জাতীয়করণের জোর দাবি জানাই।”

প্রকল্পের রমনা ইউনিয়নের সংগীত শিক্ষক মো. মহব্বত আলী মজনু বলেন, “আমিসহ অন্যান্য শিক্ষক দীর্ঘ সাত বছর ধরে সংগীত ও আবৃত্তি ক্লাস পরিচালনা করে আসছি। আমরা চাই, দীর্ঘদিনের কাজ ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে প্রকল্পটি জাতীয়করণ করা হোক। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

ক্লাবের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা চাই কিশোর-কিশোরী ক্লাবটি জাতীয়করণ করা হোক। জাতীয়করণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভিন্ন অপকর্ম থেকে দূরে থাকবে এবং ভালোভাবে গড়ে উঠতে পারবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কেও ধারণা পাচ্ছে।

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মহিম আল মোস্তাকুর বলেন, “যেহেতু তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে জাতীয়করণের দাবি করতেই পারেন। সরকার তাদের দাবি মেনে নিলে হয়তো তারা আরও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।”

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও জেন্ডার প্রমোটরদের দাবি, প্রকল্পের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নিয়মিত সম্মানী, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন তারা।