পীরগঞ্জে মসলা ফসলের আবাদে কৃষকের আগ্রহ, মরিচের দামে হতাশা ! 


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৫-০৫-১৭, ৯:১১ PM / ২১
পীরগঞ্জে মসলা ফসলের আবাদে কৃষকের আগ্রহ, মরিচের দামে হতাশা ! 
রতন মিয়া,পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি;
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় মরিচ, আদা ও হলুদের আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন হয়েছে ভালো। তবে মরিচের আশানুরূপ ফলন হলেও বাজারে দাম কম থাকায় হতাশ কৃষকরা। অন্যদিকে, আদা ও হলুদের চাষ করে ভালো দামের আশা করছেন অনেকেই।
পীরগঞ্জ উপজেলা ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ, ২৫০ হেক্টরে আদা এবং ২৪০ হেক্টরে হলুদের আবাদ হয়েছে। এসব ফসল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। উপজেলার বালুয়াহাট, মাদারগঞ্জ, লালদিঘি ও গুজ্জিপাড়া হাটে পাইকাররা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে এসব মসলা কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করছেন।
মিলনপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষি জুয়েল মিয়া জানান, তিনি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। স্থানীয় জাতের সঙ্গে হাইব্রিড মরিচও লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, “রোগবালাই দেখা দিলেও কৃষি অফিসের পরামর্শে তা সহজেই দমন করতে পেরেছি। তবে এবার মরিচের ফলন ভালো হলেও আশানুরূপ দাম পাচ্ছি না। তাই পরের মৌসুমে মরিচ চাষ বাড়াব কি না, সেটা বাজারদরের ওপর নির্ভর করছে।”
অন্যদিকে, মিঠিপুর ইউনিয়নের আব্দুল জলিল ও স্বপ্না বেগম আধুনিক পদ্ধতিতে বস্তা আদা চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তারা বলেন, “এবার আদার বাজারদর ভালো থাকলে আমরা ভালো লাভের আশা করছি।”
চকফুলা গ্রামের হারেছ আলী দেড় একর জমিতে হলুদ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “গত বছর এই ফসল থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়েছে। রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কম এবং পাইকাররা জমি থেকেই কাঁচা হলুদ কিনে নিয়ে যান। এবারও ভালো দামের আশা করছি।”
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাদেকুজ্জামান সরকার বলেন, “মসলা জাতীয় ফসল হিসেবে মরিচ, আদা ও হলুদ এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এই চাষ বৃদ্ধি পেলে আমদানি নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।”
তবে চাষিরা মনে করছেন, মরিচের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি আদা ও হলুদের বাজার স্থিতিশীল থাকলে এ দুটি ফসল ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক হারে চাষ হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।