লালমনিরহাটে মা মেয়ের বিরুদ্ধে  দুর্নীতির অভিযোগ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৫-০৯-০১, ৮:৩৫ AM / ৪৬
লালমনিরহাটে মা মেয়ের বিরুদ্ধে  দুর্নীতির অভিযোগ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে কোন রুপ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সুরভী সুলতানা জামান নামে এক মেয়েকে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রধান শিক্ষক স্বপ্না জামানের বিরুদ্ধে।
২০১৫ সালে নিয়োগ লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক দেওয়ার কথা থাকলেও জুনিয়র শিক্ষক সুরভী সুলতানা জামানের নিয়োগ দিয়েছে লালমনিরহাট কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক সুপেন্দ্র নাথ দত্ত।নিয়োগও হয়েছে লালমনিরহাট কল্যান সমিতিতে।কিন্তু লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক স্বপ্না জামান নিজের (পালিত মেয়ে) মেয়ে সুরভী সুলতানা জামানের এমপিও করেছে লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ২০১০ সালে এমপিও হয়। ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারির এমপিও হয়।সেই ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারির মধ্যে কোথাও সুরভী সুলতানা জামানের নাম নেই। সহকারী শিক্ষক আব্দুস সামাদ ২০১৫ সালের ১ আগষ্ট অবসর গ্রহন করে।সে হিসেবে সহকারী শিক্ষক পদটি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটি রেজুলেশন করে শুন্য ঘোষনা করে শুন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন  ফাউন্ডেশন বরাবর  অনুমতি চাওয়ার কথা। অনুমতি পত্র আসার পরে লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ কমিটি নিয়োগ কমিটি ঘোষনা করবেন পত্রিকায় শুন্য পদ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞাপন আহবান করবেন  প্রার্থীরা আবেদন করলে যাচাই বাছাই করে শুন্য পদে লোক নিয়োগ হবে। এটা হওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
 লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে জাতীয়  প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কোনরুপ শর্ত না মেনে ২০১৫ সালের ১ আগষ্ট একই দিনে শুন্য পদ “সহকারী শিক্ষক” হলেও সুরভী সুলতানা জামান নামে মহিলাকে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক জারিকৃত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ পরিপত্রে সাথে যা সাংঘর্ষিক।
আবার লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় লালমনিরহাট পৌর সভার মধ্যে অবস্থিত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার কথা লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বা তার উপযুক্ত কোন প্রতিনিধি। কিন্তু শুন্য পদে সুরভী সুলতানার নিয়োগে সুইড,লালমনিরহাটের সাধারন সম্পাদক সুপেন্দ্রনাথ দত্তের সাক্ষর রয়েছে।যা অবৈধ্য বলে গন্য হয়। এত অনিয়ম সত্যেও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন তাহাকে নিয়মিত বেতন দিয়ে যাচ্ছে।বেতন শীট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সুরভি সুলতানা জামান সহকারী শিক্ষকের বেতন গ্রহন করছেন। তার বেতন নেওয়া কথা জুনিয়র শিক্ষকের।এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আরো ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য সামনে আসে।২০১৮ সালের  আগষ্ট পর্যন্ত সুরভী সুলতানা জামান জুনিয়র শিক্ষকের বেতন নিয়েছে।২০১৮ সালে ২১ আগষ্ট সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের প্রতিবন্ধী অধিশাখা ৪১.০০.০০০০.০৫৪.৬৭.০৬৭.১৪-৫৩৭ নং স্বারকে সারা বাংলাদেশের ৬২ টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের ডাটা বেইজ তৈরি সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করে।
সেই আলোকে ২০১৮ সালে জুনিয়র শিক্ষক সুরভী সুলতানা জামান এর মা লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপ্না জামান এই চিঠিকে পুজি করে নিজ মেয়ে সুরভী সুলতানা জামানের২০১৫ সালের নিয়োগ গোপন করে  ২০০৯ সালে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে তথ্য প্রেরন করেন।  ফলে লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ১১ সালে নিয়োগ হওয়া শিক্ষকরা জেষ্ঠতা হারায়। ২ জন শিক্ষকের বেতন ৫ হাজার কমে যায়।
নিজের মা প্রধান শিক্ষক হওয়া এই জুনিয়র শিক্ষক সুরভী সুলতানা জামান ২০১৮ সালে শিক্ষক ডাটা বেইজে নিজের নিয়োগ ২০০৯ সালে সহকারী শিক্ষক দেখিয়ে তিন ধাপে ৪ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা আত্মসাত করেন।
উল্লেখ্য যে,২০১৮ সালে অবৈধ ভাবে জুনিয়র শিক্ষক থেকে সহকারি শিক্ষক হওয়া সুরভী সুলতান জামানের বিরুদ্ধে নুরুল আলম নামের এক সহকারী শিক্ষক লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আফরোজা খাতুন বরাবর, বেতন বৈষম্য বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।সেখানে তিনি বলেন,আমার নিয়োগ ২০১১ সালে হওয়ায় আমি সহকারী শিক্ষক হিসেবে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী ২০২১পর্যন্ত বেতন উত্তোলন করি।অথচ ১০১৮ সালের আগষ্টে শিক্ষক ডাটা বেইজে জুনিয়র  শিক্ষক সুরভী সুলতানা জামানের নিয়োগ অবৈধ ভাবে ২০০৯ সাল দেখানোর কারনে আমি তার নিচের স্কেলে বেতন উত্তোলন করে আসছি।
পরে ২০২৩ সালের ২১ আগষ্ট সুরভী সুলতানা জামানের সাথে বেতন বৈষম্য দুর করতে ০৫.৪৭.৫২০০০.০০৫.০১.০৫৯.২৩-৭৪২ নং স্বারকে জাতীয় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর একটি আবেদন প্রেরণ করলেও অজানা কারনে যা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নুরুল আলম বলেন,জুনিয়র শিক্ষক সুরভী সুলতানা জামানের মা স্বপ্না জামান জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের পিয়নদের টাকা দিয়ে ফাইল গায়েব করেছে।তাই আমি আজও সঠিক বিচার পাচ্ছি না।
লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যায়ের অভিযুক্ত জুনিয়র  শিক্ষক থেকে সহকারী শিক্ষক হওয়া সুরভী সুলতানা জামান বলেন,আমার নিয়োগের সময় আমার মা ছিল প্রধান শিক্ষক।আর আমার নিয়োগ দিয়েছে লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সাধারন সম্পাদক সুপেন্দ্রনাথ দত্ত।এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বা তার উপযুক্ত কোন প্রতিনিধি তারা আপনাকে নিয়োগ না দিয়ে অন্য কেউ কিভাবে  নিয়োগ দিল?এই প্রশ্নের জবাবে সুরভী সুলতানা জামান বলেন,আমার মা স্বপ্না জামান সব জানে আমি কিছু বলতে পারবো না।
বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক স্বপ্না জামানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
লালমিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বলেন,আমি এই নিয়োগের সময় সহকারি শিক্ষক ছিলাম।আমি তেমন কিছু জানি না।বর্তমানে আপনিতো নিয়মিত এখন বেতন শিট জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনে পাঠাচ্ছেন।তার বেতন কেন বন্ধ করছেন না?এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সামনে কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি বলব এবং ব্যবস্থা নিবো।
লালমনিরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ভুয়া সাধারন সম্পাদক সুপেন্দ্র নাথ দত্ত বলেন,দুইটা নিয়োগই আমি দিয়েছি।এটাতো আপনি অনিয়ম করেছেন।এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন কথা বলেননি।
লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসক এইচ এম রাকিব হায়দার বলেন,আমি নিয়োগের বিষয় জানি না।আপনার কাছে শুনলাম।তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।