ন্যানো-গবেষক ড. আহসানুল কায়সার পেলেন ‘স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘বিপিএ বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৭-২৫, ৩:৫৩ PM /
ন্যানো-গবেষক ড. আহসানুল কায়সার পেলেন ‘স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘বিপিএ বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’

ঢাকা: বায়োমেডিকেল গবেষণা ও উদ্ভাবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীন ন্যানো-গবেষক ড. আহসানুল কায়সার ‘স্টার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ এবং ‘বিপিএ (Best Professional Award) ২০২৬’ অর্জন করেছেন।
দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, সমাজসেবী ও উদ্ভাবকদের সম্মাননা জানাতে গত ২০ জুন ২০২৬ রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ সেন্ট্রাল কচিকাঁচা মিলনায়তনে এবং ১১ জুলাই ২০২৬ বিজয়নগরের ইআরএফ (ERF) মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ‘Biomedical Research & Innovation’ বিভাগে গবেষণাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ড. আহসানুল কায়সারকে ‘BPA (Season-02)’ এবং ‘Star Excellence Award (6th Anniversary)’ প্রদান করা হয়।
ড. আহসানুল কায়সারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তিনি মতিঝিল মডেল স্কুল থেকে এসএসসি এবং তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমি (MFA) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৯৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, বেনিন, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ বছর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এ সময় তিনি প্ল্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, মেশিন অপারেশন, অটোমেশন, লজিস্টিকস, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, মেরিন ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে কাজ করেন। পাশাপাশি নেতৃত্ব, পরামর্শ, স্বেচ্ছাসেবা, গ্রাহকসেবা ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও দক্ষতা অর্জন করেন।
বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (UPM) থেকে থিসিসভিত্তিক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি সম্পন্ন করেন।
মানবকল্যাণে কাজ করার আগ্রহ থেকে তিনি বায়োমেডিকেল গবেষণায় যুক্ত হন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি পূর্ণ বৃত্তি ও স্টাইপেন্ড নিয়ে মোনাশ ইউনিভার্সিটি (সানওয়ে ক্যাম্পাস)-এ সমন্বিত মাস্টার্স-টু-পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল “Modified Carbonate Apatite Nanoparticles ব্যবহার করে ক্যান্সারের Smart Drug Delivery এবং Image-Guided Therapy”।
গবেষণায় তিনি pH-সংবেদনশীল ও বায়োডিগ্রেডেবল কার্বোনেট অ্যাপাটাইট ন্যানোপার্টিকেলের বিভিন্ন ভৌত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেন। এসব ন্যানোপার্টিকেলকে ক্যান্সারের লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ পরিবহন, বায়ো-ইমেজিং এবং ফটোডাইনামিক থেরাপি (PDT)-সহ আধুনিক থেরানোস্টিক চিকিৎসায় ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি কাজ করেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR)-এ পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (BRiCM)-এ সহযোগী গবেষক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (DMCH) নাক-কান-গলা বিভাগের গবেষক ডা. মোস্তফা কামাল আরেফিন-এর সঙ্গে সহ-গবেষক ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন।
ডা. মোস্তফা কামাল আরেফিনের নেতৃত্বে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি কোভিড-১৯ প্রতিরোধবিষয়ক দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেন, যা মহামারির সময় দেশের অন্যতম আলোচিত গবেষণা উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে ড. আহসানুল কায়সার বলেন,
“এই সম্মান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার। আমার বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী, রোগী, তাদের স্বজন এবং দেশের মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও বিশ্বাসের ফলেই আজকের এই স্বীকৃতি। এই অর্জন আমাকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”
তিনি আরও বলেন,
“শৈশব থেকেই ‘ঐশ্বরিক ও মানবসেবার’ দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে সকল জীবের কল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন দেখেছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত ক্যান্সার সচেতনতা ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছেনি। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন দেশের প্রতিটি মানুষ সময়মতো ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার সুযোগ পায় এবং অর্থের অভাব বা চিকিৎসাসেবার সংকটে কেউ প্রাণ না হারায়, ইনশাআল্লাহ।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বায়োমেডিকেল গবেষণায় অনন্য অবদান, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ড. আহসানুল কায়সারকে বিপিএ বেস্ট প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ প্রদান করা হয়েছে।

বায়োমেডিক্যাল গবেষণার জন্য Star Excellence Award এবং BPA (Best Professional Award) 2026 অর্জন করলেন ন্যানো গবেষক ড. আহ্সানুল কায়সার।

গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ সেন্ট্রাল কচিকাঁচা অডিটোরিয়াম ও ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকার বিজয়নগর ইআরএফ অডিটোরিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও উদ্ভাবকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ অনুষ্ঠানে ন্যানো গবেষক ড. ইঞ্জিনিয়ার আহ্সানুল কায়সার বায়োমেডিক্যাল গবেষণার খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ Biomedical Research & Innovation” ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে “BPA (Best Professional Award) (Season-02)” ও “স্টার এক্সিলেন্স এ্যাওয়ার্ড ” 2026 অর্জন করেছেন।

ন্যানো গবেষক আহ্সানুল কায়সার এর জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তিনি রাজধানীর স্বনামধন্য মতিঝিল মডেল স্কুল থেকে এসএসসি ও তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি মেরিন ফিশারিজ একাডেমি (এমএফএ) থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে/ সংস্থায় প্রযুক্তিগত অবদানের লক্ষ্যে দেশে (বাংলাদেশ) এবং বিদেশে (বেনিন, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব) প্ল্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, মেশিন অপারেশন, অটোমেশন, লজিস্টিকস ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ/ নিরাপদ পরিকল্পনা, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, মেরিন ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রসেসিং ও মেটেরিয়ালস হ্যান্ডলিং-এর পাশাপাশি সহায়তা, নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবা, পরামর্শদান, গ্রাহক সেবা ও বিক্রয়ের মতো পরিশীলিত দক্ষতায় ১২ বছরের (১৯৯৮-২০১১) অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অবদানের লক্ষ্যে তিনি ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া থেকে থিসিস সহ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার অফ সাইন্স সম্পন্ন করেছেন।

সমাজ ও প্রাণীর প্রতি অকৃত্তিম ভালবাসা, নিবেদন, কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য, উচ্চতর বায়োমেডিকেল গবেষণার লক্ষ্যের ধারাবাহিকতায়, তিনি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সম্পূর্ণ বৃত্তি Monash University (সানওয়ে ক্যাম্পাস)-এ সফলভাবে “পরিবর্তিত কার্বনেট অ্যাপাটাইট ন্যানোপার্টিকেলস দ্বারা ক্যান্সারের জন্য স্মার্ট ড্রাগ ডেলিভারি এবং ইমেজ-গাইডেড থেরাপি” বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্স থেকে পিএইচডি করার জন্য যোগদান করেন। মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন ভৌত প্যারামিটারের প্রভাব বোঝা, যার মাধ্যমে বায়োডিগ্রেডেবল পিএইচ-রেসপন্সিভ অজৈব কার্বনেট অ্যাপাটাইট ন্যানোপার্টিকেলস (এনপি)-কে বায়ো-ইমেজিং এজেন্ট, ক্ষুদ্র অণু এবং বিভিন্ন ওষুধের একটি কার্যকর ন্যানো-ক্যারিয়ার হিসাবে তৈরি ও পরিবর্তন করা যায়। এই ন্যানো-ক্যারিয়ারটি স্তন ক্যান্সারের বায়ো-ইমেজিং গাইডেড টার্গেটেড থেরাপির জন্য ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে এনআইআর লেজার ব্যবহার করে স্মার্ট থেরানোস্টিক ন্যানোপার্টিকেলস ভিত্তিক ফটোডাইনামিক থেরাপি (পিডিটি) এবং স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত থেরাপিও অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত Apex Research Organization বিসিএসআইআর-এ পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ ফেলো Scholar হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর পাশাপাশি, ২০২০ থেকে 2023 সাল পর্যন্ত কোভিড-১৯ সময়কালে তিনি বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)-এর সাথে সহযোগী গবেষক হিসেবে কাজ করেন এবং বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসিএইচ) নাক-কান-গলা বিভাগের প্রখ্যাত গবেষক ও বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা কামাল আরেফিনের সাথে সহ-গবেষক ও পরামর্শদাতা হিসেবেও যুক্ত হন।

তিনি প্রধান গবেষক, বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা কামাল আরেফিনের সাথে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ঢাকার (বাংলাদেশের) বিভিন্ন হাসপাতালে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের উপর দুটি ভিন্ন মূল্যবান ও সফল জাতীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করেন, যা কোভিড-১৯ চলাকালীন অন্যতম বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গবেষণায় পরিণত হয়।

পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এই সম্মাননা মহান সৃষ্টিকর্তার দান। এটি আমার বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী, রোগী এবং তাদের অভিভাবক ও সকল মানুষের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও বিশ্বাসের ফল। এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

তিনি আরও বলেন, “স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টির সেবা” এই আদর্শে শৈশব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সকল জীব ও জীবনের জন্য কাজ করার প্রতি আমার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে Cancer বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতা ও সেবা পৌঁছায়নি। দেশের মানুষ সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় Cancer রোগ নির্ণয় ও Cancer চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পায়, অর্থের অভাবে আর বিনা চিকিৎসায় পিছিয়ে না থাকুক ও মৃত্যুর কোলে পতিত না হউক, তাই প্রাণপণে চেষ্টা চালিয়ে যাব ইনশাল্লাহ।”

বায়োমেডিক্যাল গবেষণার জন্য তাঁর এই অনন্য অবদান, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবেই BPA Best Professional Award 2026 অর্জন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

নাম: ড. ইঞ্জিনিয়ার আহ্সানুল কায়সার

পেশা: Independent Nano Researcher

শিক্ষা: PhD (Cancer Nanomedicine & Theranostic Nanoparticles), Monash University

সাম্প্রতিক অর্জন: Star Excellence Award 2026; and BPA Best Professional Award 2026 (Biomedical Research & Innovation)