

নিজস্ব প্রতিবেদক| লালমনিরহাট-
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নতুন ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমআই ট্রেডিং এন্ড কোম্পানীর বিরুদ্ধে। ভবন নির্মাণকাজে নির্ধারিত মান অনুসরণ করা হয়নি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নতুন ভবন প্রকল্পের কাঠামোগত কাজে যেখানে যেখানে স্টিমেট অনুসারে সেগুন বা গামারি কাঠ ব্যবহারের কথা, সেখানে মেহগনি কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—কাঠ পরিবর্তন করা হলেও বিল বা রেটের কোনো পরিবর্তন হয়নি, যা সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি সহ অনিয়ম করা হয়েছে।
এছাড়াও ইতিপূর্বে ভবনের ঢালাই কাজে মানহীন ও তথাকথিত ‘মরা পাথর’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পুরাতন, ময়লা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়রা বলছেন, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভবনের কাজটি শুরু করা হলেও সে সময়
সামগ্রী সাপ্লাইয়ার হিসাবে দায়িত্বে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রীর জামাতা রেফাজ রাঙ্গার নিকট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্ন মানের সামগ্রী নিয়ে কাজ করলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। ছাত্রজনতার গন অভূত্থানের পর তৎকালিন উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্বে থাকা সানজিত রানা ঠিকাদার প্রডিষ্ঠানের নিকট কমিশন বানিজ্যে জড়িয়ে পড়েন এবং ভবনটির স্লাব ঢালাইয়ে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার সহ পাঠ করে স্লাব ঢালাই করা হয়েছে। পরে তিনি স্থানীয়দের ম্যানেজ করে এ উপজেলা হতে দ্রুত বদলি নিয়ে অনত্র চলে যান।
এভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলতে থাকে। নতুন এ ভবনটি ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার স্থায়িত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে আশস্কা স্থানীয়দের।
বর্তমান সময়ে ভবনটিতে স্টিমেট অনুসারে কাঠ ব্যবহারে সেগুন ও গামারি ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে নিম্ন মানের মেহগনি কাঠ। যা স্বল্প সময়ে নস্ট হতে পারে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের সদ্ব্যবহার হচ্ছে না তেমনি প্রকৌশলীরা লুফে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ।
জানাগেছে এ ভবনটির কাজে সরাকারি বরাদ্দ সাত কোটি তিনলক্ষ নব্বই হাজার নয় টাকা। প্রকল্পটি শুরু হয় ১৫ ই জুন /২০২২ সালে যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৫ ই সেপ্টেম্বর/২০২৩ সালে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরোও ২ বছর সময় ক্ষেপণ হলেও আজোও ভবনটির কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মুখেই নির্মিত এ নতুন ভবনটির কাজ নিয়ে বর্তমান দায়িত্বরত উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, আমিও অন্য উপজেলায় এসব ভবনে সেগুন বা গামারি কাঠের ব্যবহার হয় বলে জানি। তবে এখনে দেখছি তা পরিবর্তন করে মেহগনি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট নিবার্হী প্রকৌশলী এলজিইডি কর্মকর্তা কাওসার আলম সহ মুঠোফোনে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে তার জানা নেই বলে জানান।
স্থানীয়রা বলছেন স্টিমেট পরিবর্তন হলেও সরকারি ব্যয়ের কোন পরিবর্তন না হওয়ায় এটাকে শুভঙ্করের ফাঁকি বলে অভিহিত করেছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :