স্বল্প খরচে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০১-২৫, ৫:১৮ PM /
স্বল্প খরচে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা

মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

স্বল্প খরচ ও অধিক লাভের আশায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় কৃষকেরা সরিষা চাষে ঝুঁকছেন। সামান্য পরিচর্যা আর কম ব্যয়ে চাষ হওয়ায় বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা আবাদে আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলের মাঠ জুড়ে সরিষার হলুদ ফুল ও সবুজ গাছের সমারোহ দেখা যাচ্ছে।

অগ্রহায়ণ মাসে শুরু হওয়া সরিষা চাষের ফলে পৌষ-মাঘে মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে হলুদের রাজ্য। আমন ধান কাটার পর যে জমি কয়েক মাস পতিত থাকে, সেই জমিতেই সরিষা চাষ করে অতিরিক্ত লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। সরিষার ফুলে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত মাঠ যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে, তেমনি ভালো ফলনের আশায় কৃষকদের মুখে ফুটে উঠছে আনন্দের হাসি।

কৃষকেরা জানান, আমন ধান কাটার পর হালকা চাষ ও বীজ ছিটিয়ে সহজেই সরিষার আবাদ করা যায়। এই ফসল চাষের পর একই জমিতে বোরো ধানের ফলনও ভালো হয়। সরিষা চাষের ফলে জমিতে জৈব সারের ঘাটতি পূরণ হয়, ফলে পরবর্তী বোরো মৌসুমে সারের খরচও কমে আসে।

চলতি মৌসুমে রাণীশংকৈল উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছর বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা এবার আরও বেশি জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর অধিক ফলন ও ভালো মুনাফার আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪, ১৭, ২০, বিনা-১১সহ বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগে স্থানীয় জাতের সরিষা চাষে ফলন কম হওয়ায় আগ্রহ হ্রাস পায়। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষে তারা উদ্বুদ্ধ হন। এ জাতের সরিষা মাত্র ৭৫-৮০ দিনে সংগ্রহ করা যায় এবং প্রতি ৩৩ শতাংশ জমিতে প্রায় ৮ মণ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাতোর গ্রামের কৃষক ইকবাল জানান, তিনি এ বছর এক বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।

নেকমরদ গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় এবারও তিনি সরিষা চাষ করেছেন। দাম ভালো পেলে আগামী বছর আরও কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহী হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, রাণীশংকৈলে দেশি ও উন্নত—দুই ধরনের সরিষার আবাদ হচ্ছে। উন্নত জাতের সরিষায় দেশি জাতের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ফলন পাওয়া যায়। গত বছর যেখানে ৬ হাজার ৪২৬ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল, চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১২৫ হেক্টরে। এছাড়া তৈল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ৯০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।