“মেয়েকে বাঁচাতে নিয়ে গেলাম, লাশ হয়ে ফিরল”—কাঁদতে কাঁদতে বাবার কঠিন বিচারের দাবি


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৮-২২, ১:২৫ PM /
“মেয়েকে বাঁচাতে নিয়ে গেলাম, লাশ হয়ে ফিরল”—কাঁদতে কাঁদতে বাবার কঠিন বিচারের দাবি
রতন মিয়া, পীরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জ পৌর নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় প্রসূতি শ্রাবণী আক্তার এবং তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার (২২ আগস্ট) মানববন্ধনে কাঁদতে কাঁদতে নিহত শ্রাবণীর বাবা মতিয়ার রহমান বলেন, “আমি কঠিন বিচার চাই। সুস্থ মেয়েকে মাতৃসদনে নিয়ে গেলাম, পরে লাশ হয়ে ফিরল।”
তিনি বলেন, “আমার বেটিকে মাতৃসদনে নিয়ে গেলাম। সেখানে চেকআপ-টেকআপ করে সবকিছু মিলিয়ে ১১ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়। দাম ঠিক হওয়ার পর ওরা মেয়েকে নিয়ে যায়।”
মতিয়ার রহমানের অভিযোগ, মেয়েকে নেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে ঔষুধ আনতে পাঠানো হয়। ঔষুধ নিয়ে ফিরে এসে তিনি দেখেন, তার মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আসি দেখি ওরা বলতেছে, মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে, সিরিয়াস অবস্থা—রংপুর পাঠে দিতে হবে। ওরাই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসলো। তারপর কাপড় দিয়ে ঢাকি ওরাই গাড়িতে তুলে দিলো। তখন অক্সিজেন যাওয়া-আসা করছে না। দেখে তো আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারপর অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রংপুর মেডিকেলে চলে গেলাম। রংপুর মেডিকেলে ওরা কলো, আপনার মেয়ে মারা গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আমার মেয়েকে জীবিত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকে আমার মেয়ে আর তার গর্ভের সন্তানকে জীবিত ফিরে পাইনি। এই মৃত্যুর কঠিন বিচার চাই।”
নিহত শ্রাবণী আক্তার (১৯) পীরগঞ্জ পৌরসভার ওসমানপুর সর্দারপাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের একমাত্র মেয়ে। স্বজনদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রসূতির চেকআপের জন্য তাকে পীরগঞ্জ নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা স্বজনদের জানান, সেদিনই সিজার করাতে হবে, না হলে প্রসূতির বিপদ হতে পারে।
স্বজনরা আরও অভিযোগ করে বলেন, টাকার ব্যবস্থা করতে শ্রাবণীর মা বাইরে গেলে এবং বাবা ঔষুধ আনতে গেলে স্বজনদের যথাযথভাবে না জানিয়ে প্রসূতির অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
স্বজনদের দাবি, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়াই অদক্ষ নার্স ও কর্মচারীদের মাধ্যমে ভুল চিকিৎসা এবং মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক ঔষুধ প্রয়োগের কারণে শ্রাবণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে নগর মাতৃসদন গোপনে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, প্রসূতির মৃত্যু অনেক আগেই হয়েছে।
ঘটনার পর সেদিন নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের দায়িত্বরতদের কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কক্ষে তালা ঝুলতে দেখে শ্রাবণীর পরিবার।
এ ঘটনায় মানববন্ধনে পীরগঞ্জ পৌরসভার সচিব আব্দুর রহিম প্রামাণিক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, কর্তব্যরত চিকিৎসক আহসানুল আবেদীন মামুনসহ অন্যান্য দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
ঘটনার দিন পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদ রানা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তাদের কার্যক্রম চালাতে বারবার মৌখিকভাবে নিষেধ করা হলেও তারা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপর পক্ষে রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মানববন্ধনে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বার্তা প্রেরক,
মো. রতন মিয়া
পীরগঞ্জ (রংপুর) উপজেলা প্রতিনিধি
তারিখঃ ২২/০৮/২০২৬
মোবাইল নম্বরঃ ০১৭৫০৪-০৩১৫০