স্কুলেই প্রাইভেট, প্রাথমিকে মাসিক বেতন নেয়ার অভিযোগ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৪-০৬, ৪:২৮ AM /
স্কুলেই প্রাইভেট, প্রাথমিকে মাসিক বেতন নেয়ার অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানো অনেক আগে থেকেই নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছেন না ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ১২ নং সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অভিযোগ রয়েছে, ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জনই শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত প্রাইভেট পড়ান।
জানা গেছে, কয়েকজন শিক্ষক মধ্যাহ্ন বিরতিতেও শিক্ষার্থীদের খাবার ও খেলাধুলার সুযোগ না দিয়ে প্রাইভেট পড়ান। আবার কেউ ক্লাস না থাকার সময়েও একই কার্যক্রম চালান। এতে করে সরকারি বিদ্যুৎ খরচও বাড়ছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও এখানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন নেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা মিলে ওই টাকা ব্যয় করেন এবং এর একটি অংশ দিয়ে দুজন প্যারা শিক্ষককে নামমাত্র বেতন দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে দুটি দম্পতি রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার নিজে প্রাইভেট না পড়ালেও অন্যদের নিরুৎসাহিত করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সাহেবুল ইসলাম ও তাইফুন্নাহার দম্পতি সকালে ও ক্লাসের ফাঁকে প্রাইভেট পড়ান। কাজী খালিদ হোসেন ও গুলশানারা আক্তারও সকাল ও ছুটির পর প্রাইভেট চালান। সিনিয়রদের অনুসরণ করে রাবেয়া রুমা ও জাহিদ খানও প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেছেন। একমাত্র লাবলী খানম এখনো এতে জড়াননি।
অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষায় ফেল করানো বা ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হয়। এমনকি কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগও উঠেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। একজন অভিভাবক বলেন, “বাংলাদেশে এমন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই যেখানে মাসিক বেতন দিতে হয়। বাধ্য হয়ে বাচ্চাদের অন্য স্কুলে দেওয়ার চিন্তা করছি।”

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক কাজী খালিদ হোসেন বলেন, “সবাই প্রাইভেট পড়ায়, তবে ক্লাস টাইমে নয়। প্যারা শিক্ষক রাখার জন্য কিছু টাকা নেওয়া হয়।”

প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাশেম উদ্দিন জানান, “শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানো ও মাসিক বেতন নেওয়ার কোনো বৈধতা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিনও একই ধরনের পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।