গোলাপগঞ্জে হানি ট্র্যাপ চক্রের তৎপরতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৮-৩১, ৫:০৬ PM /
গোলাপগঞ্জে হানি ট্র্যাপ চক্রের তৎপরতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে হানি ট্র্যাপের নামে একটি চক্রের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষদের নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ছবি ব্যবহার করে প্রথমে টার্গেট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। তাদের মধ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বারোকোট গ্রামের খালেদ আহমদের নামও অভিযোগের সূত্রে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং এ ঘটনায় তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ হানি ট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুই নারী ও দুই পুরুষ রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) ভোর ৪টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সিলেটের কানাইঘাটের আজিজুল হক ওরফে বাবুল মিয়া ও ফায়ারুন নেছার মেয়ে তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), সিলেট নগরীর মিরাবাজার এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ও আনোয়ারা বেগমের মেয়ে জেসমিন আক্তার (২২), মোগলাবাজার উপজেলার গঙ্গানগর এলাকার তোফাজ্জল আলী ও মালেকা বেগমের ছেলে মো. জায়েদ আহমদ (৩৫) এবং গোয়াইনঘাটের মোহাম্মদপুর এলাকার আলাল উদ্দিন ও নাসিমা বেগমের ছেলে আব্দুল জলিল (৩০)।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এসএমপির মেন্দিবাগ এলাকা থেকে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে (২৫) একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩ নম্বর বাসার পঞ্চম তলার একটি কক্ষে নিয়ে জিম্মি করা হয়।

সেখানে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। এ সময় রিফাতকে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় জেসমিন ও তানহাকে ব্যবহার করে ভিকটিমকে ফাঁদে ফেলা হয়। পরে ভিকটিম তার আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার ও ভিকটিমকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা নম্বর-১৯, তারিখ ১১ এপ্রিল ২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।