

ইমরান হোসেন, যশোর প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপ ও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল টেন্ডার বা প্রকাশ্য দরপত্র ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার জন্য ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন দোকান মালিকরা।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মেহেরুন্নেসা মেরিকে না জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত ও সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলু এসব মালামাল বিক্রি করেছেন—এমন অভিযোগে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট বিদ্যালয়ের ১১টি পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপ, তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।
তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত বলেন, পুরোনো গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও লোহার পাইপসহ মালামাল দুই লটে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এডহক কমিটির অনুমতি নিয়েই এসব মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।
তবে বিক্রির অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। এতে মালামাল বিক্রি, বিক্রয়মূল্য এবং সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, “প্রতিষ্ঠানের কোনো মালামাল বিক্রি করতে হলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশ্যে টেন্ডার আহ্বানের পাশাপাশি এলাকায় মাইকিং করে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।”
এদিকে বিদ্যালয়ের অধীনে থাকা প্রায় ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, পূর্বের চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা বা যথাযথ নোটিশ ছাড়াই অতিরিক্ত জামানতের অর্থ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ডাক্তার সীমান্ত ও সহিদুল ইসলাম বলেন, চুক্তি অনুযায়ী তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের দোকানে ব্যবসা করে আসছেন। চুক্তির মেয়াদ ও শর্ত বহাল থাকা অবস্থায় জামানত দ্বিগুণ করার জন্য চাপ দেওয়া হলে তা তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত বলেন, ৭৪টি দোকানের মধ্যে প্রায় ৩০টি দোকান প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিকরা নিজেরা ব্যবহার না করে অন্যের কাছে বেশি ভাড়ায় দিয়েছেন। এ কারণে এসব দোকানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দোকান সংস্কারের প্রয়োজন থাকায় জামানত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দোকান পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো মালামাল বিক্রি বা সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি সম্প্রতি কেশবপুরে যোগদান করেছি। সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো মালামাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মালামাল বিক্রি ও দোকানের জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত—দুই বিষয়েই অভিযোগ ওঠায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
আপনার মতামত লিখুন :