সিলেটে হামের প্রকোপ, ১৮৫ শয্যার বিপরীতে রোগী ৩৬৯


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-১০-১৩, ৪:৪৯ PM / ০
সিলেটে হামের প্রকোপ, ১৮৫ শয্যার বিপরীতে রোগী ৩৬৯

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। শয্যাসংকটে আক্রান্ত শিশুদের এক শয্যায় একাধিকজনকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এমনকি অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতেও রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শয্যা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে, গত মে মাস থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৫টি শয্যা এ চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৮৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮৪ জন হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুই হাসপাতালে মোট ১৮৫টি শয্যার বিপরীতে রোগী ছিলেন ৩৬৯ জন।

এদিকে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের চিকিৎসার জন্য নতুন করে ১২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময় পর্যন্ত বিভাগে মোট ৫২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নতুন এই মৃত্যুসহ বিভাগে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯১ জনে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, হামের সংক্রমণ শুরুর পর সিলেটে একাধিকবার টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এরপরও সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। টিকা নেওয়ার পরও অনেক শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে বলে জানা গেছে। শিশুদের পাশাপাশি কিশোর, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক তিনজনের হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেছে।

শয্যাসংকটের মধ্যে কীভাবে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, রোগী এলে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এ অবস্থায় দুটি শয্যা একত্র করে চার শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শয্যার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। তারপরও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামের চিকিৎসায় ওষুধপত্রের কোনো সংকট নেই।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অব্যাহত থাকায় পর্যাপ্ত শয্যা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।