

সৈকত আহমেদ, বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রামে এনসিপি’র জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় অংশ নিয়ে নির্মমভাবে নিহত শিশু আবীরের মা ও বাবা খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ২৬ জুন রাত ৯টার দিকে আবীরের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মূলত একজন কিশোরকে দায়ী করা হলেও স্বজনদের দাবি, এতে পূর্ণবয়স্কদেরও জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া কালিকাপুর বাইপাসে অনুষ্ঠিত পথসভায় আবীরের মা আঁখি খাতুন ও বাবা মিলন হোসেন বক্তব্য রাখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা বলেন, নির্মাণাধীন একটি মসলা ফ্যাক্টরির পাশে ভুট্টা ক্ষেতে পাওয়া আবীরের মরদেহ দেখে বোঝা যায় যে এটি একক কোনো শিশুর কাজ নয়।
মা আঁখি খাতুন বলেন, ❝এই খুনটির সাথে বড় মানুষও জড়িত। একটি ১২ বছরের হালকা গড়নের শিশু কখনও একা এমন নৃশংস খুন করতে পারে না। আবীরের লাশ যে জায়গায় ছিল এবং যেভাবে ঢেকে রাখা হয়েছিল, তা তার পক্ষে চিন্তাও করা সম্ভব নয়। আমি চাই, সব খুনিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।❞
পিতা মিলন হোসেন বলেন,❝আমার উপর যদি রাগ থাকত, তাহলে আমাকে মেরে ফেলত। আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলল? আমি এর সঙ্গে জড়িত সকল খুনিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।❞
এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই এই ঘটনায় “আসল খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করার” প্রতিশ্রুতি দেন।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, “১২ বছর বয়সী হযরত আলী হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তবে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তে খুঁজে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত খুনি ধরা পড়ুক ও শাস্তি পাক—এটাই আমাদেরও কাম্য।”
আপনার মতামত লিখুন :