

পারভেজ হাসান,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা যেন কেবলই এক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। প্রতি মাসে নিয়ম করে সভা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সভায় মাদক, বাল্যবিবাহ, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গত ১৩ এপ্রিলের ঘটনা। উপজেলার রাঘবপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে রাধা রাণী নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল রাঁধার। ৩ লাখ টাকা যৌতুকে বিয়ে হয় তাঁর। কিন্তু বিয়ের সময় তাঁর বাবা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের পরিশোধ করেছিলেন। বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য তাঁর স্বামী নির্যাতন করতেন তাঁকে। পরিবারের অভিযোগ—যৌতুকের জন্য তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা সভায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধের কথা বারবার বলা হলেও মাঠপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
পীরগঞ্জ উপজেলার অভিভাবকদের কাছে এখন বড় আতঙ্কের নাম ‘মাদক’। উঠতি বয়সী কিশোররা ব্যাপক হারে মাদকের জালে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ মাঝেমধ্যে ছোটখাটো অভিযান চালালেও মূল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছে। জনসচেতনতা তৈরির জন্য পাড়া-মহল্লায় কোনো জোরালো অভিভাবক সভা বা কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার টাঙ্গন নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি উঠলেও তা তোয়াক্কা করছে না প্রভাবশালী বালু দস্যুরা। অন্যদিকে, পীরগঞ্জ পৌরশহরে তীব্র যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়ে। যানজট নিরসনে কার্যকরী কোনো ট্রাফিক ব্যবস্থা বা পদক্ষেপ দৃশ্যমান নেই।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় পুনরায় চুরি, মাদক, বাল্যবিবাহ, যানজট এবং টাঙ্গন নদী থেকে বালু উত্তোলন প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আলোচনায় আসে শহরকে নিরাপদ রাখতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টিও।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এসব সিদ্ধান্তকে ‘কাগুজে প্রতিশ্রুতি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, বাজার ও গ্রামাঞ্চলে অপরাধের মাত্রা কমেনি বরং বেড়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শুধু সভা করলেই হবে না, সিদ্ধান্তগুলো মাঠে পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। নইলে এসব সভা অর্থহীন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার জানান, “সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :