লোভের বলি ব্যবসায়ী শফিকুল, পুলিশের জালে দুই অভিযুক্ত


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৬-১৩, ১:০৬ PM /
লোভের বলি ব্যবসায়ী শফিকুল, পুলিশের জালে দুই অভিযুক্ত

মোসফিকা আক্তার | নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর বারোমাসি বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের মরদেহের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। পুরাতন মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নওগাঁ সদর মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার ভীমপুর পাঠাকাটা এলাকার জয়নুল (৩৫) এবং মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার আশরাফুল (২৬)। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, ব্যবসায়িকভাবে সফল হওয়ায় শফিকুল ইসলামের প্রতি পরিচিত কয়েকজনের মধ্যে ঈর্ষা ও লোভের জন্ম নেয়। সেই লোভ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, গত ৭ জুন মান্দা উপজেলার সুতিহাট এলাকায় বসে তিন অভিযুক্ত হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরদিন শফিকুল ইসলামকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে ডেকে আনা হয়। পরে দুটি মোটরসাইকেলে করে তাকে বারোমাসি বিলসংলগ্ন পারঘাটি ব্রিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে পৌঁছানোর পর পলাতক অভিযুক্ত শফিকুলের গলায় রশি পেঁচিয়ে ধরে। এ সময় জয়নুল তার হাত এবং আশরাফুল তার পা চেপে ধরে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। অচেতন হয়ে পড়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। পরে মরদেহ কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।

গত বৃহস্পতিবার বারোমাসি বিল থেকে শফিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে নওগাঁ শহর থেকে জয়নুল এবং মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়নুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর শফিকুল ইসলামের কাছে থাকা প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা তিনজন নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় এবং তার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন, একটি মোটরসাইকেল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।