লোহাগড়ায় অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৮-১৫, ৪:২৫ PM /
লোহাগড়ায় অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি-নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মশাঘুনি গ্রামের নাজিম উদ্দিন দেওয়ান (৭১)–কে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লক্ষীপাশা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাজিম উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করেন, গত ১২ আগস্ট বুধবার বিকেল ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে করে লোহাগড়া উপজেলা থেকে বের হওয়ার সময় মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮), ইমরান (৪৫)সহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন তাকে টানা-হেঁচড়া ও কিল-ঘুষি মেরে একটি ঘরে নিয়ে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে আটকে রেখে তার ছেলে সৌরভ দেওয়ান ও আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ব্যাংকের চেকের পাতা মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা হয়। এ সময় তার মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাজিম উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দুটি অলিখিত ডেমিতে জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর নেয়।

পরে বিষয়টি নাজিম উদ্দিনের ছেলে সৌরভ লোহাগড়া থানায় জানালে এসআই কবিরুল ইসলাম মণ্ডল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও ডেমি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

ভুক্তভোগীর দাবি, এসব কাগজপত্র ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর নথি তৈরি করে মামলা করা হতে পারে। এ বিষয়ে স্ট্যাম্প ও অন্যান্য কাগজপত্র উদ্ধারের জন্য লোহাগড়া থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং গত ১৪ জুলাই আরও দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে পরিবার। মোট পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পরও সৌরভকে বিদেশে পাঠানো হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

পরবর্তীতে গত ২৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে এসে অভিযুক্তরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় জিডি করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত ইমরানসহ অন্যরা অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক এবং তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

লোহাগড়া থানার এসআই কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, টাকা-পয়সা পাওনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ঘটনার দিন এ নিয়ে দুই পক্ষের কথাবার্তা চলছিল। তবে নাজিম উদ্দিনকে আটকে রাখার বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তিনি দেখতে পাননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।