

রুবেল মিয়া, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক জব্দ ও সিলগালা করা প্রায় ৯ লাখ ঘনফুট বালু নিলাম ছাড়াই ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ আগস্ট রাত থেকে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে সিলগালা করা বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পরও বালু সরানো বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দেশে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকায় আগে থাকা দুটি বালু পয়েন্টের সঙ্গে নতুন করে আরও ১১টি পয়েন্ট চালু করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির পরিচয়ে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন।
বালু পরিবহনের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ কেটে এবং নদীর পিচিং ব্লক তুলে অন্তত সাতটি স্থানে রাস্তা তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ১৩টি পয়েন্ট থেকে প্রায় ৯ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ ও সিলগালা করা হয়।
এরপর একই মাসের ৩০ মে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বাঁধ রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাঁধ কেটে তৈরি করা বালু পরিবহনের রাস্তাগুলো ভেঙে দেন।
জব্দ ও সিলগালা করা বালু পাহারা এবং সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আসলাম হক ও মুকুল মন্ডলকে জিম্মাদার করা হয়।
জিম্মাদার মুকুল মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “আসলাম হক মেম্বার নিজেই বালু ব্যবসার অংশীদার। তাঁকে জিম্মাদার করার সময়ই আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমাদের ধারণা, তাঁর পরামর্শেই বালু ব্যবসায়ীরা সিলগালা করা বালু নিয়ে গেছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি আমাকে বালুবাহী গাড়ি আটকাতে বলেছেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিম্মাদার মো. আসলাম হক মেম্বার। তিনি বলেন, “বালু নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বালু নিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “জব্দকৃত বালু চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতি দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, জব্দ ও সিলগালা করা বালু নিলাম ছাড়া কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হলো, তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ কেটে তৈরি করা রাস্তাগুলোর বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :