নারী ও কিশোরীদের পুষ্টি বিষয়ক কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৯-২০, ১২:৩৩ PM /
নারী ও কিশোরীদের পুষ্টি বিষয়ক কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ও মদাতী ইউনিয়নের তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নারী ও কিশোরীদের পুষ্টি বিষয়ক কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৭ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এ কাউন্সেলিংয়ে ৮৭ জন নারী ও কিশোরী অংশগ্রহণ করেন। নিউট্রিয়াস এগ্রিফিউচার বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী (CHW) ও পুষ্টিকর্মীদের (CNP) সহায়তায় কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।
কাউন্সেলিংয়ে জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাতের পরিচিতি, মানবদেহে জিংকের প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের ঘাটতির কারণে পরিবার ও সমাজে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জিংক সমৃদ্ধ ধানের চাষাবাদ এবং নিয়মিত এ ধানের ভাত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে পরিবারের জিংকের ঘাটতি পূরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
আয়োজকরা জানান, মানবদেহের জন্য জিংক একটি অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান। শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতেও জিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে কিশোরী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা এবং প্রজনন বয়সী নারীদের পর্যাপ্ত জিংক গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাউন্সেলিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের বায়োফোর্টিফাইড বা পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসলের উপকারিতা এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এসব ফসল অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সচেতন করা হয়। একই সঙ্গে পরিবারের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষ ও তা খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নিউট্রিয়াস এগ্রিফিউচার বাংলাদেশ লিমিটেড ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ জৈব-ফর্টিফায়েড খাদ্য ফসলের উন্নয়ন ও প্রসারের মাধ্যমে পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (IFPRI)-এর অংশ হিসেবে CGIAR-এর সহযোগিতায় হারভেস্টপ্লাস বিশ্বব্যাপী জিংক সমৃদ্ধ ধানসহ বিভিন্ন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য ফসলের প্রসারে কাজ করছে।
হারভেস্টপ্লাস সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বীজ ও চাল বিক্রেতাদের সম্পৃক্ত করছে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে প্রজনন বয়সী নারী, কিশোরী এবং ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষের মাধ্যমে কৃষকের আর্থিক লাভের পাশাপাশি পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। গ্রামীণ এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সাধারণত প্রতি ব্যাচে ২৫ থেকে ৩৬ জন নারী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা এবং কিশোরীকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও পুষ্টিকর্মীরা এ বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।
কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য হলো নারী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা এবং কিশোরীদের মধ্যে জিংক পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বায়োফোর্টিফাইড জিংক সমৃদ্ধ ধানসহ পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসলের ব্যবহার ও চাষাবাদে উৎসাহিত করা।