কালীগঞ্জে ছাত্রশূন্য মাদ্রাসায় উপবৃত্তি, বই, প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগ!


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৪-২৮, ১০:৫৪ AM /
কালীগঞ্জে ছাত্রশূন্য মাদ্রাসায় উপবৃত্তি, বই, প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগ!
 লালমনিরহাট প্রতিনিধি- একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— যেখানে ভবন আছে, শ্রেণিকক্ষ আছে, শিক্ষকও আছেন। কিন্তু নেই শিক্ষার্থী। তবুও বন্ধ হয়নি সরকারি সুযোগ-সুবিধা। নিয়মিত উত্তোলন করা হচ্ছে উপবৃত্তির অর্থ, বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে নতুন বই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি দাখিল  মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে কার্যত ছাত্রশূন্য অবস্থায় পরিচালিত হলেও কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটি সচল দেখিয়ে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের তালাবদ্ধ কক্ষে বছরের পর বছর পড়ে থেকে ধুলো জমছে নতুন বই। অন্যদিকে, মাদ্রাসার মাঠে শিক্ষার্থীদের কোলাহল নেই; সেখানে চরছে গরু, উৎপাদন হচ্ছে ঘাস।
স্থানীয়দের দাবি, এটি এখন আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং কাগজে-কলমে টিকে থাকা এক রহস্যময় মাদ্রাসা। পরীক্ষার মৌসুম এলেই সেখানে শুরু হয় নতুন নাটক। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে অন্য শিক্ষার্থীকে ভাড়া করে প্রক্সি হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ এপ্রিল কাকিনা কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় হুমায়ন নামের এক পরীক্ষার্থীর বদলে বৈরাতি এলাকার শাহজাহানের ছেলে জাহিদ হাসান পরীক্ষা দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তাকে একটি মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয়রা আরমান অভিযোগ করেন, ছাত্র না থাকলেও নানা কৌশলে উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। নতুন বইও অনিয়মের মাধ্যমে অন্যত্র বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের এক অফিস সহকারীও।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান আমিনা খাতুন তার অবস্থান তুলে ধরেছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে— কার ছত্রছায়ায় চলছে এসব অনিয়ম? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কারা আত্মসাৎ করছে সরকারি অর্থ? আর কতদিন চলবে শিক্ষার নামে এই প্রতারণা?
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান আমিনা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ভুয়া শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আটকৃত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।