মূল বিজ্ঞপ্তিতে নেই ‘জুনিয়র শিক্ষক’, পরে এমপিওভুক্তি—নর্থবেঙ্গল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নিয়োগ নথিতে প্রশ্ন


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৮-১৪, ১১:০২ AM /
মূল বিজ্ঞপ্তিতে নেই ‘জুনিয়র শিক্ষক’, পরে এমপিওভুক্তি—নর্থবেঙ্গল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নিয়োগ নথিতে প্রশ্ন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের নর্থবেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও পরবর্তী এমপিওভুক্তি নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—মূল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘জুনিয়র শিক্ষক’ পদ না থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি ও রেজুলেশনের মাধ্যমে তিন শিক্ষক ও একজন শিক্ষা সহায়ককে এমপিওভুক্ত করা, দুই শিক্ষকের যোগদানের তারিখ পরিবর্তন এবং এক শিক্ষা সহায়কের নাম-পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগ।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত মূল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘জুনিয়র শিক্ষক’ পদটির উল্লেখ ছিল না। তবে পরবর্তীতে সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য তৈরি রেজুলেশনে তারিখ দেখানো হয়েছে ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর—অর্থাৎ মূল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক সপ্তাহ আগে।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, মূল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগের তারিখে কীভাবে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির রেজুলেশন তৈরি হলো এবং পরে সেই সংশোধনের ভিত্তিতে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি কীভাবে সম্পন্ন হলো?
যোগদানের তারিখ পরিবর্তনের অভিযোগ
বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রীতি রানী রায় ও মাধবী লতা রায়ের যোগদানের তারিখ পরিবর্তনেরও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে তাদের তৎকালীন যোগদানের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে ৪ জানুয়ারি ২০১০ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীর দাবি, নথিতে থাকা তারিখের এমন পরিবর্তন নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নিয়োগ বোর্ডের সদস্যই পরে প্রার্থী?
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা সহায়ক (আয়া) দীপ্তি রায়কে ঘিরে। সংশ্লিষ্ট নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শিটে নিয়োগ বোর্ডের একজন সদস্য হিসেবে ‘দীপ্তি রায়’ নামের স্বাক্ষর থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে এনআইডি ও যোগদানপত্রে নাম পরিবর্তন করে ‘মতি দীপ্তি রাণী’ করা হয় এবং ওই নামেই এমপিও আদেশ জারি করা হয়েছে।
অভিযোগটি সত্য হলে একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে থাকা ব্যক্তি কীভাবে পরবর্তীতে ওই নিয়োগের প্রার্থী ও নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
১২ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৪ টাকার বেতন-ভাতা
এই চারজনের বকেয়া ও চলতি বেতন-ভাতা বাবদ ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৪ টাকা দেওয়ার জন্য জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে গত ২৮ জুন ২০২৬ চিঠি দেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান।
তবে পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বেতন বিল বন্ধ রাখার বিষয়ে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তের নির্দেশ, কিন্তু তদন্ত কোথায়?
এসব অভিযোগ নিয়ে রাকিবুল ইসলাম রুবেলের লিখিত অভিযোগের পর জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সোনা মনি চাকমা সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগকারীর দাবি, তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো তদন্ত কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। অদৃশ্য কারণে তদন্ত এগোচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী রাকিবুল ইসলাম রুবেল বলেন, “২০২৩ সাল থেকেই এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করে আসছি। এর আগে বিষয়টি নিয়ে অনেক নিউজও হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একটি কাঠামোর মধ্যে চলছিল। কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পরই এসব অনিয়ম চোখে পড়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নর্থবেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র বর্মন বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান করতে অনেক কষ্ট করেছি। আপনারা লিখে কী করবেন।”
এ বিষয়ে নর্থবেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”