

আরিফুল ইসলাম | সালথা, ফরিদপুর
ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপ—জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে ২৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। উভয়পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য–বিরোধের জেরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থক ওমর ফারুককে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) লাঞ্ছিত করার ঘটনা উত্তেজনা ছড়ায়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। সংঘর্ষ বালিয়া বাজার, কাঠিয়ার গট্টি গ্রাম, বালিয়া গট্টি গ্রামসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। লুটের মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল। নুরু মাতুব্বরের সমর্থক ওমর ফারুক দাবি করেন, তার পাঁচটি গরু লুট করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লুটপাটের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে আতঙ্কে নারী ও শিশুরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি করে। সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বন্ধ হয়ে যায়, জরুরি বিভাগে রোগীরা ফিরে যান।
বিএনপি নেতা জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের মন্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সালথা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মারুফ হাসান রাসেল জানান, অতিরিক্ত পুলিশের সহায়তায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :