মুজিবনগরে স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০১-১০, ১১:৩৩ AM /
মুজিবনগরে স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকট

এম ফাহিম | চরফ্যাসন (ভোলা)

ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মুজিবনগরে বসবাসকারী প্রায় ২০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যখাতে চরম অবহেলার কারণে দ্বীপবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরো মুজিবনগর দ্বীপে একটি সরকারি বা বেসরকারি ক্লিনিকও নেই। নেই কোনো স্থায়ী চিকিৎসক কিংবা ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা। ফলে সাধারণ রোগেও মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে ঝাড়ফুঁক কিংবা অনভিজ্ঞ চিকিৎসার ওপর।
দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নৌকাই একমাত্র ভরসা। প্রতিকূল আবহাওয়া, নদীর প্রবল স্রোত ও নৌযানের স্বল্পতার কারণে অনেক সময় রোগী পরিবহন একেবারেই সম্ভব হয় না। রাতে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে নদী পার হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য কোনো নৌ-অ্যাম্বুলেন্সও নেই।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। গর্ভকালীন পরীক্ষা, নিরাপদ প্রসব কিংবা নবজাতকের চিকিৎসার কোনো সুব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক নারী ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘরেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি, ডায়রিয়া ও জ্বরের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বারবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এক বাসিন্দা বলেন, “অসুস্থ হলে আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।”
দ্বীপের বাসিন্দা ফজল মাঝি বলেন, “প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। আজ পর্যন্ত সরকার একটি ক্লিনিকও স্থাপন করেনি। নদী পার হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। গুরুতর অসুস্থ হলে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।”
বিবি কলছুম নামে এক নারী বলেন, “২০২৪ সালে গভীর রাতে আমার প্রসব বেদনা শুরু হয়। নদী পার হতে না পারায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধাত্রী দিয়ে ঘরেই সন্তান প্রসব করি।”
ইউপি সদস্য মনির হাওলাদার বলেন, দ্বীপটিতে দ্রুত একজন স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি।
এ বিষয়ে চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, “মুজিবনগর দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।”