

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর শঠিবাড়ী অধীনস্থ পীরগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন চতরা সাব-স্টেশন ও অভিযোগ কেন্দ্রকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
গত ১৯ মার্চ ২০২৬ সকালে চতরা অফিস থেকে বৈদ্যুতিক মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। পরে সিসিটিভি ফুটেজে অফিসের লাইনম্যান গ্রেড-১ মোঃ শফিকুল ইসলাম টাইগার ও বাড়িওয়ালা আতিয়ার রহমানকে শনাক্ত করা হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয় জনতার সহায়তায় চুরির মালামাল উদ্ধার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, নৈশ্য প্রহরি আজাদুল ইসলামের সহায়তায় পুনরায় বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। অবৈধ সংযোগ প্রদান, প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগে ২০২৫ সালের আগস্টে আজাদুল ইসলামকে মিঠাপুকুর গ্রিডে বদলি করা হলেও মাত্র ৮ মাসের ব্যবধানে তিনি আবারও চতরা সাব-স্টেশনে ফিরে আসেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ৬ বছর আগে বিচ্ছিন্ন হওয়া একটি আবাসিক সংযোগে নতুন করে বিল প্রদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মোঃ জাহিবুল ইসলাম, পিতা- আজিজার রহমান, উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের জমিরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট পাশ্ববর্তী সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে তার আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর থেকে তিনি কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার করেননি এবং ওই সংযোগে কোনো মিটারও ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করেই তাকে ৩ হাজার ১৭৬ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জাহিবুল ইসলাম বলেন, “আমার সংযোগ ৬ বছর আগেই বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এরপর কোনো মিটারও ছিল না। তাহলে এখন আবার কীসের ভিত্তিতে বিল দেওয়া হলো বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয়দের দাবি, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দীর্ঘদিন পর হঠাৎ বিল প্রদান সম্পূর্ণ অনিয়ম। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহককে পূর্বে নোটিশ দেওয়ার কথা থাকলেও এ ঘটনায় তা মানা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :