আসামিকে শ্রীপুরের দারোগার হুমকি


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৫-২২, ৯:২৫ PM /
আসামিকে শ্রীপুরের দারোগার হুমকি

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
‎”খরচাপাতি দিলে মামলা হালকাপাতলা করুম। না হইলে কিন্তু প্যাচকি (ঝামেলা) বাজাইয়া দিমু। এটা আমি ডাইরেক্ট বললাম।”—মামলার আসামিকে ফোনে সরাসরি এভাবেই ঘুষের প্রস্তাব ও হুমকি দিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তাজুল ইসলাম। ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের এমন একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লকালাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

‎​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কাশিজুলী গ্রামের মো. হযরত আলী গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মানহানি মামলা দায়ের করেন। সাতজনকে আসামি করা ওই মামলাটির তদন্তভার পান শ্রীপুর থানার এসআই মো. তাজুল ইসলাম। মামলাটি আদালতের ডকেটভুক্ত হওয়ার পর থেকেই আসামিদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

‎​সম্প্রতি ওই মামলার ৩ নম্বর আসামি জাকির মোড়লের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তাজুলের ফোনালাপের অডিওটি ফাঁস হয়।

‎​অডিও রেকর্ডে দারোগা তাজুল ইসলামকে বেশ প্রভাব খাটিয়ে বলতে শোনা যায়, “তাদের যোগাযোগ করতে বলো। খরচাপাতি দিলে হালকাপাতলা করুম।” এরপর আঞ্চলিক ভাষায় হুমকি দিয়ে বলেন, যোগাযোগ না করলে কিন্তু ‘প্যাচকি’ বাজাইয়া দেবেন। একই সাথে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে বলেন, “যোগাযোগ করলে মামলা কোর্টে গেলে শেষ হয়ে যাবে। আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বলো। একটু পরে আমি তোমাদের এলাকায় আসছি।”

‎​ওপ্রান্ত থেকে অভিযুক্ত জাকির মোড়ল বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “ভাই জালাল, বারেক ওঁদের কাছে তো আপনার নাম্বার আছেই। তাঁদের বলবো যোগাযোগ করতে।” এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “তুমিও যোগাযোগ করো। তুমিও কিছু করো।” তখন জাকির মোড়ল পুনরায় আকুতি জানিয়ে বলেন, “ভাই, আপনি তো তদন্ত করে দেখছেন, এখানে আমার কোনো দোষ নেই।” কিন্তু দারোগা তাজুল তার ‘খরচাপাতি’র দাবিতে অনড় থাকেন।

‎​ঘুষ দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসআই মো. তাজুল ইসলাম। তার দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি (ম্যানিপুলেট) করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আসামির সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করিনি।” তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে এক সাংবাদিককে টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি থতমত খেয়ে বলেন, “দুপুরে খাওয়ার জন্য কিছু টাকা দিতে চেয়েছিলাম।”

‎​
‎​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণে জেলা পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”