ঘোড়াঘাটে ১৬ কিলোমিটার সড়কে চরম জনদুর্ভোগ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৫-১১, ৩:১২ AM /
ঘোড়াঘাটে ১৬ কিলোমিটার সড়কে চরম জনদুর্ভোগ

ফাহিম হোসেন রিজু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রানীগঞ্জ হাটের মাজার মোড় থেকে শালিকাদহ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক দেবে গিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীদের হাঁটাচলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সিংড়া কলাবাড়ি মাজার মোড় থেকে কুলানন্দপুর ও কলাবাড়ি বলগাড়ি হয়ে শালিকাদহ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিংয়ের কোনো চিহ্ন নেই। ইটের খোয়া উঠে গিয়ে অনেক গর্ত কর্দমাক্ত ডোবায় পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও যানবাহনচালকরা।
স্থানীয়দের দাবি, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়ন এবং রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
সবজি চাষের জন্য পরিচিত বুলাকিপুর ইউনিয়নের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, মরিচ, পাট, আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় হাট রানীগঞ্জে নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ—দুটিই বেড়ে গেছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি চিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স অনেক সময় গর্তে আটকে পড়ে বা ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়। এতে রোগীর জীবনঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় চার বছর আগে সড়কের মাত্র ৪ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হলেও অতিবৃষ্টি, ভারী যানবাহন ও পাওয়ার টিলারের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে পুরো ১৬ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় এক ভ্যানচালক বলেন, “রাস্তার যে অবস্থা, প্রতিদিনই গাড়ি ঠিক করতে গ্যারেজে যেতে হয়। একবার এই রাস্তা দিয়ে গেলে সারা শরীরে ব্যথা হয়ে যায়। যাত্রী তুলতেও ভয় লাগে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িক জোড়াতালি নয়, বরং টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি দ্রুত চলাচল উপযোগী করা হোক। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশ প্রশস্ত করে কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী বহন ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।