ঘোড়াঘাটে নদীপাড়ে জমজমাট জুয়ার আসর, বাড়ছে প্রশ্ন


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৫-০৯, ৭:৫৮ PM /
ঘোড়াঘাটে নদীপাড়ে জমজমাট জুয়ার আসর, বাড়ছে প্রশ্ন

ফাহিম হোসেন রিজু,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামের করতোয়া নদীর তীরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানের পরও রহস্যজনকভাবে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছে এসব আসর, ফলে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুলানন্দপুর গ্রামের দুর্গম নদীপাড়কে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত জুয়ার আয়োজন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল ও সিএনজিযোগে লোকজন সেখানে জড়ো হয়। দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়াসহ আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকেও লোকজন অংশ নেয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় দূর থেকেই প্রশাসনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চক্রটি নজরদারির জন্য কয়েকজনকে দায়িত্বে রাখে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলেই মূল আয়োজকেরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজনকে আটক করা হলেও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা খুব কমই দেখা যায়। এ কারণে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “প্রায়ই বাইরের লোকজন এখানে আসে। মাঝে মধ্যে অভিযান হয়, তবে কিছুদিন পর আবার আগের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। এতে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।”

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, জুয়ার পাশাপাশি নদীপাড় এলাকায় মাদকসেবনের ঘটনাও বাড়ছে। এর প্রভাব তরুণদের ওপর পড়ছে এবং এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাটি একাধিক উপজেলার সংযোগস্থলে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “জুয়ার আসর বসার অভিযোগ থাকা এলাকাটি তিন থানার সীমান্তবর্তী দুর্গম চরাঞ্চল। সীমানা জটিলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা স্থান পরিবর্তন করে। অতীতেও সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং মামলা হয়েছে। পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট থানার সমন্বয়ে আবারও যৌথ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সময়মতো তথ্য প্রদান করলে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”

এদিকে, স্থানীয়দের দাবি—শুধু অভিযান নয়, স্থায়ীভাবে জুয়ার আসর বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রশাসনের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান তারা।