ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, কোমরে খেলনা পিস্তল—বাঘায় ‘ভুয়া পুলিশ’ চক্রের ২ সদস্য আটক


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৮-০৭, ১:০৮ PM / ০ Views
ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, কোমরে খেলনা পিস্তল—বাঘায় ‘ভুয়া পুলিশ’ চক্রের ২ সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক মুক্তি

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তল, একটি মোটরসাইকেল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে বাঘা উপজেলার আড়ানী পিয়াদাপাড়া এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে হাসিবুল হাসান (২৪) এবং মাড়িয়া গ্রামের হাকিমুদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা (৩৩)।
অভিযোগ রয়েছে, আটক দুই ব্যক্তি ও তাদের আরও এক সহযোগী ওই এলাকার বাসিন্দা আরিফা বেগমের বাড়িতে গিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। তাদের কোমরে পিস্তল সদৃশ একটি খেলনা অস্ত্র ঝোলানো ছিল। তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করলে বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুইজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয় এবং তল্লাশি চালিয়ে একটি খেলনা পিস্তল ও এর কভার, একটি মোটরসাইকেল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করে।
পুলিশ জানায়, এর একদিন আগে (৫ আগস্ট) একই বাড়িতে গিয়ে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুয়া পুলিশ পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং খেলনা পিস্তল ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে বাঘা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আটক হাসিবুল হাসান ২০২০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর তিনি একটি অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য, এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অপরাধ সংঘটিত করছিলেন। আটক দুইজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং অন্য কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, মামলা দায়েরের পর আটক দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে বা সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।