পীরগঞ্জে দুই বিদ্যালয়ে এসএসসিতে শতভাগ ফেল, দায় সিসি ক্যামেরার?


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৮-১০, ৩:১৬ PM /
পীরগঞ্জে দুই বিদ্যালয়ে এসএসসিতে শতভাগ ফেল, দায় সিসি ক্যামেরার?

মোঃ রতন মিয়া, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি—

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয় দুটি হলো—চতরা ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষকদের দাবি, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকায় ভয়ে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ এ ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের পাঠদানে অমনোযোগিতাকে দায়ী করেছেন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ২৮৩টি। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন পরীক্ষার্থী। এ বছর বোর্ডে ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জানা গেছে, কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন এবং ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

স্থানীয় রোস্তম আলী মিয়া বলেন, জনসচেতনতার অভাবেও এমন ফলাফল হতে পারে। এলাকার অভিভাবকেরা আরও সচেতন হলে হয়তো প্রতিষ্ঠান দুটির এমন শূন্য ফলাফল হতো না।

স্থানীয় মিলন ও সবুজ মিয়া বলেন, জিরো ফলাফলের জন্য শিক্ষকদেরও দায় রয়েছে। শিক্ষকেরা পাঠদানে আরও সচেতন হলে এমন ফলাফল হতো না। বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত ভালো পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রউফ বলেন, “আমাদের স্কুলে এমন কখনোই হয়নি। এবারের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি।”

একই ধরনের দাবি করেন শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষক মুশফিকুর রহমান ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক মিয়া। তারা বলেন, সিসি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভয়ের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন ফলাফল না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, “শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বেশ কয়েকটি কারণ আছে। তার মধ্যে বড় কারণ হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা কম। যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সংখ্যা আরও বেশি হতো, তাহলে ভালো পাঠদান হতো।”

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, স্কুলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ে সমস্যা ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাদের একাধিকবার বলা হয়েছিল। শতভাগ ফেল করার বিষয়ে তাদের শোকজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিসি ক্যামেরার উপস্থিতি পরীক্ষার্থীদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা যেমন যাচাই করা প্রয়োজন, তেমনি বিদ্যালয় দুটির নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা ও শিক্ষার পরিবেশও পর্যালোচনা করা জরুরি।