

ফাহিম হোসেন রিজু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সংকটে আজ মুখ থুবড়ে পড়ছে। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটিকে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও, এখনও মিলছে না পূর্ণাঙ্গ সেবা।
বুধবার (৪ জুলাই) সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ডাক্তার নাই, ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা মিলছে না”।
পুরাতন ভবনের নিচতলায় জরুরি বিভাগে ভিড় করছেন শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা। অনেকে আবার শয্যা না পেয়ে নিচে মেঝেতে শুয়ে আছেন। ল্যাব, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম রুমেও সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ জহুরুল আলম জানান, নবনির্মিত ভবন চালু হলেও ৫০ শয্যার জনবল না থাকায় সম্ভব হচ্ছে না পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা প্রদান। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ৫০০-৬০০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন। অথচ ৩১ শয্যার জন্যই ১৫ জন চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৩ জন। শূন্য রয়েছে আরও ১২ জন চিকিৎসকসহ বিভিন্ন বিভাগের ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান মেহেদী হাসান বলেন, “জনবল সংকট নিরসনের বিষয়ে আমি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। প্রয়োজনে আবারও জানাব। জনগণ যাতে সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক দায়িত্বও চলছে জোড়াতালিতে। প্রধান সহকারী ও স্টোর কিপারের পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে স্টোর ও হিসাব বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি নেই আলাদা স্টোর রুমও।
উল্লেখ্য, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেখানে ৩১ শয্যার জন্য প্রয়োজন ১২২ জন জনবল, সেখানে রয়েছে মাত্র ৭৪ জন। বাকি ৪৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। জনবল সংকট নিরসন না হলে, শীঘ্রই পুরো স্বাস্থ্যসেবাই বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :