চীন যাওয়া হলো না, তিস্তায় ডুবে নিখোঁজ মুহিত


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৫-০৯-০৩, ৮:১৮ AM / ৬০
চীন যাওয়া হলো না, তিস্তায় ডুবে নিখোঁজ মুহিত

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশীরাম (গুরাতিপাড়া) এলাকার বাসিন্দা আফজাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেলালের পুত্র মেহেদী হাসান মুহিত তিস্তা নদীতে বন্ধুদের গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ। এখনো মিলেনি তার কোন সন্ধান বা মৃতদেহ। সর্বনাশা তিস্তা মুহিত শুধু মুহিতের জীবনের স্বপ্নকেই ভেসে নিয়ে যায়নি কেড়ে নিয়েছে তার জীবন। কি নিস্ঠুর নিয়তি মুহিতের।

২রা সেপ্টম্বর (মঙ্গলবার) আনুমানিক দুপুর ২ টার দিকে মুহিত তার বন্ধুদের সাথে গোসল করতে রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার মটুকপুর ঘাটে আসলে এ নির্নম ঘটনার শিকার হন মুহিত। মুহিত উপজেলা তুষভান্ডার রমনী মোহন বালক উচ্চ বিদ্যালয় এর একজন প্রাক্তন ছাত্র ছিল।

কাশীরাম হতে তুষভান্ডার হয়ে মুহিত কেন মটুকপুর ঘাটে গোসল করতে গেলেন জানতে গিয়ে জানা যায় মুহিত বাড়িতে  মাকে তার পছন্দের খাবার রান্না করতে বলে বাসা হতে তুষভান্ডার বাজারে আসেন ওএমএসএস এর খোলা বাজারে আটা কিনতে। এ আটা কিনতে এসে বন্ধুদের দেখা মিললে তারা চারবন্ধু তুষভান্ডার হতে ৫/৬ কিমি অদূরে তিস্তা নদীর মটুকপুর ঘাটে।

সরেজমিনে জানা গেছে মুহিত ও তার বন্ধুরা গোসল করতে ঘাটের সম্মুখের তিনটি ছড়া পাড় হয়ে মূল নদীর কাছের একটি ছড়ায় গোসল করতে নামলে বন্ধুদের ভাষ্যমতে মুহিত নিখোঁজ হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো চার বন্ধু একই সাথে গোসল করতে নামলেও মুহিত নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সুস্পস্ট ভাবে কারো সঠিক বনর্না পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে মুহিত সাঁতার জানতো না। নদীর যে ছড়ায় মুহিত নিখোঁজ হয়েছেন সেখানে বেশি বা অথৈ পানিও ছিল না বলে জানা গেছে। প্রশ্ন একটাই তাহলে মুহিত নিখোঁজের পিছনে মূল রহস্য কি?

মুহিতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে,  মুহিত করোনা সময়ের আগে চীনে লেখাপড়া করতো পাশাপাশি পাঠটাইম জবও করতো সে। কিন্তু দেশে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মুহিত চীন হতে দেশে ফিরে এবং ঢাকায় একটি প্রাইভেট জব করে। চীনের সাংগাই শহরে ভালো একটি জব অফার পাওয়ায় মুহিত আগামী ৭ই সেপ্টেম্বর চীন যাওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পুর্ন করলেও সর্বনাশা তিস্তা তার স্বপ্ন ও জীবন কে নিমিশেই শেষ করে দিলো। চর এলাকার বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস টিমের ডুবারু দল অনেক খোঁজাখু্জি করেও মুহিতের সন্ধান পাননি। তার পরিবার জানান মুহিতের লাশ পেতে খুজ্তে সকল প্রকার চেস্ঠা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রতিবেশিদের দাবি মুহিত অত্যন্ত, ভদ্র ও নম্র একটি ছেলে ছিলো সে শুধু বাড়ি আর মসজিদ ছাড়া কোথাও যেত না। তুষভান্ডার হাই স্কুলে লেখাপড়া করার কারনে মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে তুষভান্ডার আসত। আর কোথাও যেত না সে।

আরেক প্রতিবেশি আনারুল বলেন,  মুহিতের বাবা হেলাল সন্তানের এ খবর শুনে বলেন, কয়েকদিন পূর্বে তার ছেলে কে  একটি  মেয়ে সংক্রান্ত ঘটনায় জড়ানোর চেস্টা করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

মুহিতের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেউ স্বাভাবিক হিসাবে দেখলেও অনেকে আবার এ ঘটনা কে হত্যা হিসাবে সন্দেহ করছেন কারন এর মূলে অন্য কোন কারন না থাকে তাহলে বাড়ির পাশে তিস্তায় না গিয়ে একটু দূরর্বর্তী এবং যে সময় মুহিত নিখোজ হয়েছেন সে সময় সে এলাকায় তেমন লোকজনের দেখা মিলে না যেমন আবার মুহিত ও তার বন্ধুরা নদীর পাশে গোসলে না নেমে নদীর ৩ টি ছড়ার পানি পাড় হয়ে কেন মধ্য নদীর দিকে ধাবিত হওয়ার পিছনে কোন কারন থাকলেও থাকতে পারে। মুহিত নিখোঁজ হলো আর বাকী বন্ধুরা কি করেছিল তখন বা তাদের বনর্না মতে ঘটনার মিল কতটুকু?  সবকিছুর উত্তর পাওয়া যাবে মুহিতের লাশ উদ্ধারের পর। আসলেই মুহিত নিখোঁজ হয়েছিল সাঁতার না জানার কারনে নাকি উদ্দেশ্যেই ছিল হত্যার।