রংপুরে ডিবির বিরুদ্ধে আটক পর ৫০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৮-২৫, ৯:০১ AM / ০ Views
রংপুরে ডিবির বিরুদ্ধে আটক পর ৫০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরে তিন যুবককে আটক করে মারধর, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার পর ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং পরে ৩ লাখ টাকা নিয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আটককৃত ভুক্তভোগী বুলবুল। সে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীরাম গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে রংপুর মেট্রো ডিবির এসআই আবু সাইদ বাবলা, জেলা ডিবির কনস্টেবল আতিকুল ইসলাম বসুনিয়া  আতিক, এডিসি শরিফুল ইসলামের বডিগার্ড কনস্টেবল মোসলেম উদ্দিন খোকনসহ ডিবির অন্যান্য সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীরাম এলাকার মো. বুলবুল আহমেদ (২১) দাবি করেন, গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি তার দুই বন্ধু মো. হাবিব হাসান মিলন (২৪) ও মো. বিপ্লব হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে মোবাইল ফোন কেনার উদ্দেশ্যে রংপুর শহরে যান। অভিযোগে বলা হয়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা মোটরসাইকেলে করে রংপুর থেকে বাড়ি ফেরার সময় বুড়িরহাট সংলগ্ন আনান সিটির সামনে ডিবির কয়েকজন সদস্য তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এ সময় এসআই আবু সাইদ বাবলার নেতৃত্বে ডিবির সদস্যরা তাদের আটক করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, কোনো কারণ না জানিয়ে তাদের দেহতল্লাশি করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে কয়েকটি মোবাইল ফোন এবং নগদ মোট ৭৪ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের রংপুর শহরের জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে হাতকড়া পরানো হয়। সেখানে তাদের পায়ের তলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বুলবুল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাতেই তাদের মেট্রো ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বুলবুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে যোগাযোগ করে তাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাদের ওপর মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

বুলবুলের দাবি, পরদিন সকালে ডিবির দুই সদস্য মোটরসাইকেলে করে গংগাচড়া থানাধীন মহিপুর ব্রিজ এলাকায় যান। সেখানে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো ৩ লাখ টাকা কয়েকজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে গ্রহণ করা হয়।

এরপর তিনজনের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তাদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন রেখে শুধু মোটরসাইকেলটি ফেরত দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযোগকারী বিষয়টি তদন্ত করে এসআই আবু সাইদ বাবলা, কনস্টেবল আতিক, কনস্টেবল মোসলেম উদ্দিন খোকনসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। চলচে আলোচনা ও সমালোচবা। সমাজের রক্ষকরাই যদি ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তবে নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়? প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ যে, ডিডি কন্সটোবল আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে ক্যাসিনোর সাথে সংশ্লিষ্টতার ও মাদকের সেবনের অভিযোগ।

অভিযোগের সঙ্গে ডিবি কার্যালয়ে ধারণ করা ছবি ও একটি অডিও রেকর্ড সংযুক্ত করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগে অভিযুক্ত এসআই আবু সাইদ বাবলা, কনস্টেবল আতিক ও কনস্টেবল মোসলেম উদ্দিন খোকনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।