

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি:
পিরোজপুর সদর উপজেলার চুলিশার গ্রামে জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই বিরোধপূর্ণ জমির গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী পারভিন (৪৫) দাবি করেছেন, কয়েক দফায় জমির বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ৩ অক্টোবরও অবশিষ্ট গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পারভিনের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে পিরোজপুরের দেওয়ানি আদালতে ৯৮/২০১৬ ও ২৩১/২০১১ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে। একই জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে এসিল্যান্ড আদালতে ৫৬১পি/২০১৬-২০১৭ নম্বর মিস মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসএ খতিয়ান ৪২০-এর ২১৩ নম্বর দাগ এবং এসএ খতিয়ান ৪২৩-এর ২৫২/৭৫০ ও ২৫২ নম্বর দাগসহ সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আদালতে এসব বিষয় বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জমির গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
পারভিন অভিযোগ করেন, ২৭ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত কয়েক দফায় ওই জমি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়া হয়। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার গাছ কাটা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট পিরোজপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। জিডির নম্বর ১৫৫৩।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, জিডির বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটায় বাধা দেয়। পরে দিনের বেলায় গাছ কাটার কাজ বন্ধ থাকলেও রাতে বৈদ্যুতিক আলো ব্যবহার করে গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সর্বশেষ ৩ অক্টোবরও অবশিষ্ট গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেন পারভিন।
এদিকে গাছ কাটার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন পারভিন। তার দাবি, তাদের বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
পারভিন এ ঘটনায় জমির বিরোধ ও গাছ কাটার অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জমির মালিকানা ও বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল।
আপনার মতামত লিখুন :