আশ্বাসেই পার ৭ মাস, হোসেনগাঁওয়ে ভাঙা সেতুতে ঝুলছে লাল কাপড়


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-১০-২২, ১:৪৪ PM / ০
আশ্বাসেই পার ৭ মাস, হোসেনগাঁওয়ে ভাঙা সেতুতে ঝুলছে লাল কাপড়

মোঃ মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুর এক পাশের বড় অংশের ঢালাই ধসে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা বাঁশ পুঁতে লাল কাপড় ঝুলিয়ে সতর্কসংকেত দিয়েছেন। তবে প্রায় সাত মাসেও সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

২২ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর এক পাশের বড় অংশ ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে বেরিয়ে আছে বাঁকা লোহার রড। সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় অসাবধানতাবশত কোনো যানবাহন গর্তে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে ভাঙা অংশের কাছে বাঁশ পুঁতে তাতে লাল ও পুরোনো কাপড় বেঁধে রেখেছেন। তাঁদের দাবি, পথচারী ও চালকদের বিপজ্জনক স্থানটি সম্পর্কে সতর্ক করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই অস্থায়ী সতর্কসংকেত সেতুর ঝুঁকি দূর করতে পারছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হোসেনগাঁও ইউনিয়নের এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষও এ পথ ব্যবহার করেন। ফলে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাঁদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় সাত মাসে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে এসে ভাঙা সেতুর ছবি তুলেছেন এবং দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, “প্রায় সাত মাস ধরে দেখছি, লোকজন আসে, মোবাইল ও ক্যামেরায় ছবি তোলে আর বলে দ্রুত কাজ হবে। কিন্তু ছবি তোলাই সার, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রশাসন কি বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির পর ব্যবস্থা নেবে?” তাঁরা দ্রুত সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।

হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আকিল হোসেন বলেন, সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা জরুরি। সেতুর চলাচলের জায়গা সরু হয়ে যাওয়ায় এক পাশের যানবাহন অন্য পাশকে জায়গা দিতে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, “ব্রিজটি তৈরির জন্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ হলেই কাজ শুরু হবে।”

সেতুটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।