

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ভাসুরের বাড়িতে বেড়াতে এসে সাথী খানম (২৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর বেপারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
নিহত সাথী খানম লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের বৈকণ্ঠপুর গ্রামের খাঁজা বিশ্বাসের মেয়ে। তাঁর স্বামীর বাড়ি একই উপজেলার দিঘলিয়া সাহাপাড়ায়। স্বামী শাহাবুল ইসলাম পাখি প্রায় দুই বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে রয়েছেন। ঘটনার আগের দিন সাথী তাঁর ভাসুর পলাশ শেখের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিল তিন বছর বয়সী ছেলে রাজ।
পলাশ শেখের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাড়িতে ফেরেন। এ সময় সাথী তাঁদের সঙ্গে কথা বলে অন্য একটি কক্ষে যান। শিশুটি তাঁদের কাছেই ছিল। প্রায় আধা ঘণ্টা পর শিশুটি ওই কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পায়। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পলাশ শেখ ও তাঁর স্ত্রী দরজা খোলার চেষ্টা করেন। পরে জানালা দিয়ে সাথীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন বলে জানান তিনি।
পলাশ শেখের বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াসিন জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাথী তাঁর কক্ষের কলিং বেল চাপেন। এ সময় সাথী তাঁকে বলেন, পলাশ শেখ ফোন করলে বা কিছু জানতে চাইলে মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি তাঁর বাসায় এসেছিলেন—এ কথা জানাতে। এরপর ইয়াসিন নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বাইরে চিৎকার শুনে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উঠে সাথীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের বাবা খাঁজা বিশ্বাস জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পলাশ শেখ তাঁকে ফোন করে মেয়ের সমস্যা হয়েছে জানিয়ে দ্রুত বাড়িতে যেতে বলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখানে পৌঁছে তিনি মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় তিনি লোহাগড়া থানায় লিখিতভাবে অপমৃত্যুর সংবাদ দিয়ে ঘটনার তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
সাথীর মা নাছিমা বেগম বলেন, “আমার ভালো মেয়েটা গতকাল তাদের বাসায় এল। কী এমন ঘটল যে তাকে আত্মহত্যা করতে হলো? আমি ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই, বিচার চাই।”
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোপীনাথপুর বেপারীপাড়া এলাকায় এক নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে সাথী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :