ঘোড়াঘাটে শিশুর পায়ুপথে হাওয়া ঢোকানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-১১-০৭, ১০:৩০ AM / ০
ঘোড়াঘাটে শিশুর পায়ুপথে হাওয়া ঢোকানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভলকানাইজিং দোকানের হাওয়া মেশিন দিয়ে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর পায়ুপথে বাতাস প্রবেশ করিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। বর্তমানে শিশুটি বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত দোকানমালিক মো. আফজাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঘোড়াঘাট উপজেলার ২ নম্বর পালশা ইউনিয়নের ডুগডুগীহাট বাজারে অভিযুক্ত আফজাল হোসেনের ভলকানাইজিং দোকানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানের হাওয়া মেশিনের পাইপ ব্যবহার করে শিশুটির পায়ুপথে উচ্চচাপের বাতাস প্রবেশ করানো হয়। এতে শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পায়ুপথে গুরুতর রক্তাক্ত জখমের সৃষ্টি হয়।

শিশুটির বাবা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ছেলের সুন্নতে খতনা উপলক্ষে গত ২৫ অক্টোবর তিনি শ্বশুরবাড়ি চৌরিয়া গ্রামে আসেন। পরদিন ২৬ অক্টোবর শিশুটির খতনা সম্পন্ন হয়। এরপর তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরে যান।

তিনি বলেন, গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মাধ্যমে ছেলের গুরুতর অসুস্থতার খবর পান। খবর পেয়ে দ্রুত শিশুটিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুটির শরীরের ভেতরে বাতাস প্রবেশের বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বিবরণ দেয়। তার অভিযোগ, অভিযুক্ত আফজাল হোসেনের দোকানে হাওয়া মেশিন ব্যবহার করে তার পায়ুপথে বাতাস প্রবেশ করানো হয়েছিল।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশুটির উন্নত চিকিৎসা ও মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

শিশুটির চিকিৎসা চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।