ঘুষের আড্ডাখানায় পরিণত আদিতমারী ভূমি অফিস! এসিল্যান্ডের স্বীকারোক্তি— “অল বাংলাদেশে এটা সত্য”


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৫-১৩, ৪:০৬ PM /
ঘুষের আড্ডাখানায় পরিণত আদিতমারী ভূমি অফিস! এসিল্যান্ডের স্বীকারোক্তি— “অল বাংলাদেশে এটা সত্য”

ফারুক আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক-
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার যোগদানের পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না আদিতমারী উপজেলা প্রশাসনের। মসজিদের ইমাম নিয়োগে বিতর্ক, সেবা প্রত্যাশীদের রুম থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ— সব মিলিয়ে এখন যেন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে এসব। জেলা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এবার আদিতমারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, সেবা প্রত্যাশীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করেও তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী বাবুল মিয়া জানান, সরকারি সড়ক উদ্ধার করার জন্য তিনি এসিল্যান্ড অফিসে আবেদন করেন। তদন্ত শেষে এসিল্যান্ড প্রতিবেদন দিলেও পরে সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর, হিলটন ও মশিউর তাকে ডেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। তারা সরাসরি বলে দেন— “টাকা না দিলে কিছুই হবে না।” পরে বাধ্য হয়ে বাবুল মিয়া জাহাঙ্গীরকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেন। এরপর বাকি টাকা দিতে না পারায় অন্য পক্ষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবুল আরও অভিযোগ করেন, পরে তিনি অফিসে গেলে তাকে অপমান করে বের করে দেওয়া হয়।
এদিকে অনুসন্ধানে গিয়ে প্রতিবেদক নিজেও হয়রানির শিকার হওয়ার দাবি করেছেন। আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ১ শতাংশ জমি খারিজ করতে গেলে কোনো কাগজ গ্রহণ না করে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরানো হয় তাকে।
পরে অফিস সহায়ক আখতারা বেগম কাগজপত্র দেখে ১ শতাংশ জমি খারিজের জন্য ৪ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুস সালামের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি পরে রুমে প্রবেশ করতে বলেন। এরপর উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, “সব জায়গায় টাকা দিতে হয়। এসিল্যান্ড অফিসেও টাকা যায়।” কারা টাকা নেয়— এমন প্রশ্নে তিনি হিলটন, মাধবসহ আরও অনেকের নাম উল্লেখ করেন বলে প্রতিবেদকের দাবি।
এসব বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ভিডিওতে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে অডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, “কেউ যদি ঘুষ গ্রহণ করে তাহলে লিখিতভাবে জানান। আমি আসার পরে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন—
“এটা আছে। অল বাংলাদেশে এটা সত্য। আমি নিজেও এটা স্বীকার করি।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার এর বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।