
সিলেট প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের ২৯ বছর পূর্ণ হলো আজ রোববার (১৪ জুন)। ১৯৯৭ সালের এই দিনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দেশের বিপুল গ্যাসসম্পদ, বনাঞ্চল, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং জাতীয় অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হলেও এখনো আদায় হয়নি পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ।
১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাতে ফুলবাড়ী চা-বাগান সংলগ্ন মাগুরছড়া গ্যাস অনুসন্ধান কূপে খননকাজ চলাকালে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুনের শিখা প্রায় ৬০০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়। টানা ১৫ দিন ভয়াবহ আগুন জ্বলতে থাকে এবং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগে।
তৎকালীন সময়ে মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল অব বাংলাদেশ লিমিটেড সরকারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। স্থানীয় জনগণের আশা ছিল গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু অনুসন্ধানকাজ চলাকালেই ঘটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা।
তেল-গ্যাস বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনায় প্রায় ২৪৫.৮৬ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পুড়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া পরিবেশ, বনাঞ্চল, অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিস্ফোরণে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক গাছপালা ধ্বংস হয়, হাজার হাজার বন্যপ্রাণী ও পাখি মারা যায় এবং লাউয়াছড়া অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চা-বাগান, রেললাইন, সড়কপথ, বিদ্যুৎলাইন ও গ্যাস পাইপলাইন।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, বনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়নি। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।
এদিকে মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির ২৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। তারা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং কমলগঞ্জের ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের দাবি জানিয়েছেন।
দীর্ঘ ২৯ বছর পরও মাগুরছড়া ট্র্যাজেডির দায় নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণ আদায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পুনর্বাসনের প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রতিবেদকের নাম 






