

আবুল কাশেম রুমন, সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সময়ে ওই তিন শিশুর মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স এক বছর। আব্দুল্লাহ আল সাফওয়ান নামের শিশুটি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শহীদুল ইসলামের ছেলে। দ্বিতীয় শিশু জিসান আহমেদের বয়স নয় মাস। সে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মকবুল হোসাইনের ছেলে। অপর শিশুটির নাম জায়ান। তার বয়স তিন মাস ২৪ দিন। সে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মিজানুর রহমানের ছেলে।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত শিশুরা অপুষ্টিসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে মাত্র ১০ জনের পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। অন্যদের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
এ ছাড়া চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পরীক্ষাগারে সিলেট বিভাগের ১ হাজার ১১৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুদের অনেকেরই টিকা দেওয়া ছিল না। পাশাপাশি তাদের মধ্যে অপুষ্টি, হৃদ্রোগ, নিউমোনিয়া ও জন্ডিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মা ও শিশুর পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া, হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে যথাযথ চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :