ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সুদ ও ঘুষ: ইসলামি সমাজে হারাম ও অভিশাপ - দৈনিক মুক্তি

সুদ ও ঘুষ: ইসলামি সমাজে হারাম ও অভিশাপ

নিজস্ব প্রতিনিধি
ইসলাম ধর্মে সুদ (রিবা) ও ঘুষ (রিশওয়াহ) উভয়কেই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সমাজে অন্যায় বৈষম্য ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রধান উৎস হিসেবেই এগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজকের দিনে অর্থনীতির মোড়লে রূপ নেওয়া এই দুটি পাপকর্মই মানব সমাজে চরম দুর্নীতির জনক হিসেবে বিবেচিত।

সুদের ভয়াবহতা

সুদ এক ধরনের শোষণমূলক আর্থিক লেনদেন। এতে মূলধনের উপর অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করা হয়, যা ইসলামের দৃষ্টিতে জুলুম ও অবিচার।
 আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন: “যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতের দিনে সেই ব্যক্তির মত উঠে দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে।” (সূরা বাকারা: ২৭৫)

সুদ মানুষকে স্বার্থপর, অবিবেচক এবং নিঃসংশয়ে অন্যকে ঠকাতে উৎসাহিত করে। এতে ধনী আরও ধনী হয়, গরিব আরও গরিব হয়ে পড়ে—ফলে সামাজিক বৈষম্য ও বিদ্বেষ জন্ম নেয়।

ঘুষের অভিশাপ

ঘুষ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা ন্যায়বিচারকে বিলুপ্ত করে। ইসলামে ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়ের প্রতি অভিশাপ দেওয়া হয়েছে।
 রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “ঘুষদাতা, ঘুষগ্রহীতা ও মধ্যস্থতাকারী—তিনজনকেই আমি লা’নত (অভিশাপ) করেছি।” (আবু দাউদ) ঘুষের কারণে মেধাবীরা বঞ্চিত হয়, দুর্নীতিপরায়ণরা সুযোগ নেয়। এর ফলে সমাজে অবিচার, অনাচার ও জবাবদিহিহীনতা গড়ে ওঠে।

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় নিষিদ্ধ

ইসলাম অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসলামি ব্যাংকিং, যাকাত, সদকা, কর্জে হাসানা ইত্যাদির মাধ্যমে ইসলামে সুদ ও ঘুষবিহীন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলা হয়েছে। আজকের মুসলিম সমাজে এই দুটি বিষময় কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ছে। তাই প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তি, সমাজ নেতা ও আলেমদের উচিত—সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা। ইসলামি শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এ ব্যাধি রোধ করা সম্ভব।

সুদ ও ঘুষ শুধু ব্যক্তিগত পাপ নয়, এটি একটি সামষ্টিক ব্যাধি। এর পরিণতি শুধু দুনিয়াতে নয়, আখিরাতেও ভয়াবহ। তাই ইসলামি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এই দুই হারাম কাজ থেকে দূরে থাকাই ইমানদারের পরিচয়।

ট্যাক

সুদ ও ঘুষ: ইসলামি সমাজে হারাম ও অভিশাপ

আপডেট সময় ০৯:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি
ইসলাম ধর্মে সুদ (রিবা) ও ঘুষ (রিশওয়াহ) উভয়কেই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সমাজে অন্যায় বৈষম্য ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রধান উৎস হিসেবেই এগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজকের দিনে অর্থনীতির মোড়লে রূপ নেওয়া এই দুটি পাপকর্মই মানব সমাজে চরম দুর্নীতির জনক হিসেবে বিবেচিত।

সুদের ভয়াবহতা

সুদ এক ধরনের শোষণমূলক আর্থিক লেনদেন। এতে মূলধনের উপর অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করা হয়, যা ইসলামের দৃষ্টিতে জুলুম ও অবিচার।
 আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন: “যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতের দিনে সেই ব্যক্তির মত উঠে দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে।” (সূরা বাকারা: ২৭৫)

সুদ মানুষকে স্বার্থপর, অবিবেচক এবং নিঃসংশয়ে অন্যকে ঠকাতে উৎসাহিত করে। এতে ধনী আরও ধনী হয়, গরিব আরও গরিব হয়ে পড়ে—ফলে সামাজিক বৈষম্য ও বিদ্বেষ জন্ম নেয়।

ঘুষের অভিশাপ

ঘুষ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা ন্যায়বিচারকে বিলুপ্ত করে। ইসলামে ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়ের প্রতি অভিশাপ দেওয়া হয়েছে।
 রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “ঘুষদাতা, ঘুষগ্রহীতা ও মধ্যস্থতাকারী—তিনজনকেই আমি লা’নত (অভিশাপ) করেছি।” (আবু দাউদ) ঘুষের কারণে মেধাবীরা বঞ্চিত হয়, দুর্নীতিপরায়ণরা সুযোগ নেয়। এর ফলে সমাজে অবিচার, অনাচার ও জবাবদিহিহীনতা গড়ে ওঠে।

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় নিষিদ্ধ

ইসলাম অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসলামি ব্যাংকিং, যাকাত, সদকা, কর্জে হাসানা ইত্যাদির মাধ্যমে ইসলামে সুদ ও ঘুষবিহীন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলা হয়েছে। আজকের মুসলিম সমাজে এই দুটি বিষময় কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ছে। তাই প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তি, সমাজ নেতা ও আলেমদের উচিত—সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা। ইসলামি শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এ ব্যাধি রোধ করা সম্ভব।

সুদ ও ঘুষ শুধু ব্যক্তিগত পাপ নয়, এটি একটি সামষ্টিক ব্যাধি। এর পরিণতি শুধু দুনিয়াতে নয়, আখিরাতেও ভয়াবহ। তাই ইসলামি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এই দুই হারাম কাজ থেকে দূরে থাকাই ইমানদারের পরিচয়।