ঝালকাঠিতে ডাকবাংলো দখলের অভিযোগ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৫-০৯, ৭:৫২ PM /
ঝালকাঠিতে ডাকবাংলো দখলের অভিযোগ

নবীন মাহমুদ,ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠির রাজাপুরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো দখল করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বসবাস করছেন— এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এতে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অতিথিদের আবাসন সংকট তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় যোগদান করেন ওসি সুজন বিশ্বাস। যোগদানের পর তিনি থানার নির্ধারিত সরকারি বাসভবনের পরিবর্তে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষে অবস্থান শুরু করেন। বর্তমানে ডাকবাংলোর প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে রাখার কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশও সীমিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, অতীতে রাজাপুর থানার কর্মকর্তারা থানার অভ্যন্তরে থাকা সরকারি ভবনেই বসবাস করতেন। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ভারতের জৌনপুর থেকে ধর্মীয় সফরে আসা তিনজন আলেমের আবাসনের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর এসব আলেম সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে ডাকবাংলোতে অবস্থান করতেন। কিন্তু এবার কক্ষ খালি না থাকায় তাঁদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ আবদুর রহিম বলেন, “জৌনপুরের আলেমরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকায় আসছেন। তারা সাধারণত অল্প সময়ের জন্য ডাকবাংলোতে থাকেন। এবার তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করতে না পারায় আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি।”

ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মো. মানিক তালুকদার জানান, ভবন খালি থাকায় কয়েকদিন আগে ওসি সেখানে উঠেছেন। বর্তমানে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ রাখা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরী বলেন, “ডাকবাংলোটি জেলা পরিষদের অধীন। আমরা শুধু তদারকির দায়িত্ব পালন করি। থানার ভেতরের ওসির বাসভবন সংস্কারাধীন রয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে তিনি সেখানে চলে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে, ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, “থানার ভেতরে বর্তমানে ওসিদের জন্য উপযুক্ত বাসযোগ্য ভবন নেই। আগের ব্যবহৃত ব্যারাকটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তাই সাময়িকভাবে ডাকবাংলোতে অবস্থান করছি।”

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনসাধারণ ও অতিথিদের জন্য নির্ধারিত সরকারি স্থাপনাগুলোর স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।