

নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অবৈধ ভাটায় অভিযান চালিয়ে ১৫টি চুল্লি ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় পানি দিয়ে চুল্লির আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ভাটার মালিক ও তিন শ্রমিককে মোট ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। পাশাপাশি অভিযান থেকে আনুমানিক ৩ হাজার মণ কাঠ ও ৯০২ বস্তা কয়লা জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের সারুলিয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে সারুলিয়া এলাকায় অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির ভাটায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভাটার মালিকসহ তিন শ্রমিককে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সময় দুজন পালিয়ে যান।
পরে প্রশাসন কয়লা তৈরির ১৫টি চুল্লি ভেঙে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় পানি দিয়ে চুল্লিগুলোর আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে আনুমানিক ৩ হাজার মণ কাঠ ও ৯০২ বস্তা কয়লা জব্দ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুবেল শেখ অবৈধ কয়লার ভাটার মালিক খন্দকার ওবায়দুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া কর্মচারী মো. হিরুকে ১ হাজার টাকা এবং আব্দুল্লাহ ও কামালকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
জব্দ করা কাঠের প্রতি মণ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কয়লার প্রতি কেজি ২৪ থেকে ২৮ টাকা দরে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুবেল শেখ বলেন, কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা সম্পূর্ণ আইনত দণ্ডনীয় ও নিষিদ্ধ। অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ভাটার মালিক ও তিন কর্মচারীকে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জব্দ করা মালামাল কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে এসব মালামাল বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :