কোটচাঁদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, প্রতারণা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-১০-২৪, ৩:০৬ PM / ০
কোটচাঁদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, প্রতারণা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

জাহিদুল হক বাবু, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জমি বিক্রির নামে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় কারাগারে থাকা আলমসাধুচালক আব্দুল জব্বারের মুক্তি, ন্যায়বিচার ও জমির বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার গুড়পাড়া বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

জমি কেনার পর মালিকানা নিয়ে জটিলতা

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কোটচাঁদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত ৪৩৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে গুড়পাড়া মৌজার ৩৫৪৪ নম্বর দাগের চার শতক জমি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় আব্দুল জব্বারের কাছে বিক্রি করেন মতিয়ার রহমান বিশ্বাস।

পরিবারের দাবি, আলমসাধু চালিয়ে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে জমিটি কেনেন জব্বার। পরে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন তিনি।

তবে পরবর্তীতে জমির নামজারি করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ২৪০৪ নম্বর হেবা ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে একই জমি মতিয়ার রহমান তাঁর দুই স্ত্রী পরিছন নেছা ও পিনজিরার নামে হস্তান্তর করেছিলেন। বিষয়টি গোপন রেখে জমি বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জব্বার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

সালিশ ও লিগ্যাল এইডের উদ্যোগেও মেলেনি সমাধান

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে মতিয়ার রহমান জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁদের।

পরবর্তীতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মধ্যস্থতায় বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, গত ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সালিশে মতিয়ার রহমান একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। এতে মামলা প্রত্যাহার ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল বলে জানান তাঁরা।

তবে বিরোধের মধ্যেই মতিয়ার রহমানের স্ত্রীর দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলায় গত ১৫ অক্টোবর আব্দুল জব্বার কারাগারে যান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

জব্বারের পরিবারের দাবি, তিনি কারাগারে থাকায় পরিবারের সদস্যরা আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছেন। তিন সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলেও জানান স্বজনেরা।

পাল্টা এজাহারে একাধিক অভিযোগ

এদিকে, গত ২২ অক্টোবর মতিয়ার রহমান কোটচাঁদপুর মডেল থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি পাল্টা এজাহার দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ওই এজাহারে মারধর, জখম, নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাই, জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া এবং বসতবাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল জব্বারের পরিবার ও এলাকাবাসী মতিয়ার রহমান এবং তাঁর ছেলে পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মাহবুব রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মতিয়ার রহমান ও মাহবুব রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।