

ইমরান হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে সরকারি অনুমোদন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিচালিত হওয়ার অভিযোগে প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) বাংলাদেশ প্রধান কার্যালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রবিবার (১০ মে ২০২৬) দুপুরে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড় এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, অনুমোদনহীনভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং জাল সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে।
এর আগে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জাল সনদ বিক্রি ও প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এ. কে. আজাদ ইকতিয়ারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি গোপনে পুনরায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ ও সিলগালা করে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে খুলনার জয়েন্ট স্টক থেকে প্রাথমিক অনুমতি নিয়ে কেশবপুরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার নামে অফিস পরিচালনা করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ রয়েছে, ডিএমএফ, ডিএমএ, ডিএমএস, ডিএইচএমসি, ডিএনএ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এক্স-রে, ডেন্টাল ও নার্সিংসহ মোট ৫৬টি ট্রেডে সনদ দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রশিক্ষণের নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। এছাড়া দেশব্যাপী গড়ে তোলা ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আকর্ষণীয় প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বেকার যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা ও সনদ প্রদান করতে হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি অভিযানকালে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :