নিয়োগ বাণিজ্যে মাহবুবের কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ


dailymukti24 প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৫-১১, ১২:৪২ PM /
নিয়োগ বাণিজ্যে মাহবুবের কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে প্রভাব বিস্তার করে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবের বিরুদ্ধে। সাধারণ একজন ‘রেকর্ড সাপ্লাইয়ার’ পদে কর্মরত থাকলেও তাঁর জীবনযাত্রা ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বোর্ডের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৬৬ জন অস্থায়ী কর্মচারীকে স্থায়ী করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মাহবুব বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনে জড়িয়েছেন। নিজের আত্মীয়স্বজন ছাড়াও অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ব্যক্তিদের স্থায়ী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই নিয়োগ বাণিজ্য থেকে তিনি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের মেয়েজামাতাসহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকেও তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুবিধা দিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন বোর্ডের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বোর্ডের একজন সাধারণ কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও মাহবুবের জীবনযাত্রায় দেখা যায় বিলাসিতার ছাপ। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহীর অভিজাত এলাকায় বহুতল ভবন, দামি গাড়ি এবং নিজের নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। সীমিত আয়ের একজন কর্মচারী কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এত সম্পদের মালিক হলেন—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

মাহবুবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল বলে জানা গেছে। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্তের অগ্রগতি থেমে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ৬৬ জন কর্মচারীকে স্থায়ী করার ঘটনাকে ঘিরে সেই পুরনো অভিযোগগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারী ইউনিয়নের পদের প্রভাব খাটিয়ে মাহবুব শিক্ষা বোর্ডে নিজের একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁর মতের বিরোধিতা করলে অনেককে নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বোর্ডের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মাহবুবের সম্পদের উৎস, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।